অতিবর্ষণে জলবন্দি পূর্ব মেদিনীপুর, ১২ দফা দাবিতে সেচমন্ত্রীর দ্বারস্থ বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটি

অতিবর্ষণে জলবন্দি পূর্ব মেদিনীপুর, ১২ দফা দাবিতে সেচমন্ত্রীর দ্বারস্থ বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটি

নিজস্ব সংবাদদাতা : সাম্প্রতিক অতিবর্ষণে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলবন্দি হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ১২ দফা দাবিতে সেচমন্ত্রী অরূপ দাসের কাছে স্মারকলিপি দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটি। কলকাতার জলসম্পদ ভবনে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই স্মারকলিপি তুলে দেন কমিটির প্রতিনিধিরা। প্রতিনিধিদলে ছিলেন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, নিবাস মানিক, প্রশান্ত সামন্ত-সহ অন্যান্যরা।কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-পরবর্তী নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে জেলার একাধিক ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ফের জলবন্দি হয়ে পড়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির কাছাকাছি একাধিক নদী ও নিকাশী খাল রয়েছে। গত আগস্ট মাসেওনিম্নচাপজনিত বৃষ্টির কারণে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এ বছর বড় ধরনের নদীবাঁধ ভাঙনের ঘটনা না ঘটলেও নিকাশী ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জল জমে দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়কের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্লকের জমা জল নালা ও মূল নিকাশী খালের মাধ্যমে নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বহু খাল সংস্কার না হওয়ায় সেগুলি মজে গিয়েছে। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টির জল দ্রুত বেরোতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি কেলেঘাই নদী ও বিভিন্ন নিকাশী খালের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ, বেআইনি ইটভাটা এবং মাছের ভেড়ির মতো বিষয়গুলিও নিকাশী ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে কমিটির দাবি।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বতন সরকারের আমলে বেশ কিছু নদী ও খাল ‘নো কস্ট’ পদ্ধতিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে সেই পদ্ধতিতে কাজের গতি যথেষ্ট ছিল না। তাই গুরুত্বপূর্ণ নদী ও বড় খালগুলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংস্কারের কাজ শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোলাঘাট-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত ব্লক এলাকা সেচমন্ত্রী নিজে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখুন এবং আশু ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।স্মারকলিপি গ্রহণের পর মন্ত্রী অরূপ দাস দাবিগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।