আর্জেন্টিনা: ৩ (মেসি, লিসান্দ্রো, ডিনে আত্মঘাতী) | কেপ ভার্দে: ২ (ডুয়ার্তে, কাব্রাল)
নিজস্ব সংবাদদাতা : আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জিতেছে, কিন্তু এই ম্যাচের আসল গল্প লিখে গেছে কেপ ভার্দে। স্কোরলাইন বলছে ৩-২ ব্যবধানে মেসিদের জয়, কিন্তু সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ লড়াইয়ের ইতিহাস।দু'বার পিছিয়ে পড়েও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাত্র সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। শেষ বাঁশি বাজলেও মাথা নত করেনি তারা। হার মেনেছে, কিন্তু আত্মসমর্পণ করেনি।

আর্জেন্টিনার জয় হয়তো ইতিহাসের পাতায় আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে থাকবে। কিন্তু কেপ ভার্দে ও তাদের কোচ ভোজিনহা শিখিয়ে গেলেন—ফুটবলের আসল সৌন্দর্য শুধু ট্রফি জেতায় নয়, অসম লড়াইকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার মধ্যেই। জীবনে যখনই কঠিন সময় আসবে, যখনই মনে হবে প্রতিপক্ষ অনেক বেশি শক্তিশালী, তখন হয়তো মনে পড়বে ভোজিনহা নামের সেই মানুষটির কথা। যিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দলকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিলেন—লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই শেষ নয়।

আর্জেন্টিনা মাঠে জিতেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু নেভিস কার্ডাসের সেই কথাটাও আজ যেন নতুন করে সত্যি হয়ে উঠল—"স্কোরবোর্ড সব গল্প বলে না।" কেপ ভার্দে জিতে নিয়েছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়। শুধু নিরপেক্ষ সমর্থক নয়, অসংখ্য আর্জেন্টিনা সমর্থকও আজ সম্মান জানিয়েছেন এই দুর্দান্ত যোদ্ধাদের।

বিদায়, কেপ ভার্দে। বিদায়, ভোজিনহা। হয়তো আগামী বিশ্বকাপে আবার দেখা হবে না। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাসে যখনই ছোট দলের বড় স্বপ্নের কথা উঠবে, তখনই উচ্চারিত হবে তোমাদের নাম। লড়াইয়ের আরেক নাম হবে ভোজিনহা, আর অসম সাহসের আরেক নাম হবে কেপ ভার্দে।

অনেকে বলেন, পরাজিতদের কেউ মনে রাখে না। বাস্তবটা ভিন্ন। যারা মাথা উঁচু করে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করে হার মানে, ইতিহাস তাদের ভুলে যায় না। কারণ তাদের গল্পই নতুন স্বপ্ন দেখায়, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বাস করায়—অসম্ভব বলে কিছু নেই।

কেপ ভার্দে এবার পারেনি। কিন্তু তারা এমন একটি পথ তৈরি করে দিয়ে গেল, যে পথে হেঁটে আগামী দিনে হয়তো আরেকটি ছোট দল বিশ্বকে চমকে দেবে। সেই দিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়।