সেখ ওয়ারেশ আলী : একসময় রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যক্ষা (টিবি) চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী বিধানসভার অন্তর্গত গড়বেতা-৩ ব্লকের চন্দ্রকোনা রোডের ডিগ্রি এলাকায় অবস্থিত এম. আর. বাঙ্গুর টিবি স্যানেটোরিয়াম হাসপাতাল। ১৯৫০ সালে ৩১৭টি শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ঐতিহ্যবাহী হাসপাতাল বর্তমানে অবকাঠামোগত সংকট ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় কার্যত অস্তিত্ব সংকটে।

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মাত্র ৯ জন রোগী। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব, স্থায়ী সুপারের অনুপস্থিতি, আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার ঘাটতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোর অভাব, জরাজীর্ণ রাস্তা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবে রোগী ও কর্মীদের নিত্যদিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

হাসপাতাল চত্বরে একাধিক ভবন, কর্মীদের আবাসন এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় চুরির ঘটনা, সাপের উপদ্রব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।সম্প্রতি শালবনী বিধানসভার বিধায়ক বিমান মাহাতো হাসপাতাল পরিদর্শন করে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, হাসপাতালটির সার্বিক উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হবে এবং আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, হাসপাতালটির বিস্তীর্ণ পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে যদি এটিকে একটি আধুনিক সুপার স্পেশালিটি বা AIIMS-এর আদলে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করা যায়, তবে জঙ্গলমহল-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে পারেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা, নার্সিং, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।সূত্রের খবর, হাসপাতালের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।