নিজস্ব সংবাদদাতা : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন শেষ অধ্যায়ে। বাকি মাত্র দুটি ম্যাচ।বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। কিন্তু সেমিফাইনালে হারের যন্ত্রণা নিয়ে এবার তাদের লড়তে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। যদিও এটি শিরোপার মঞ্চ নয়, তবুও দুই দলের কাছেই এই ম্যাচের গুরুত্ব কোনও অংশে কম নয়।বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতিহাস বলছে, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের লড়াই বরাবরই জমজমাট। বিশ্বকাপে দুই দলের আগের তিন দেখায় প্রথম দুটি ম্যাচে জিতেছিল ইংল্যান্ড। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতে শেষ হাসি হেসেছিল ফ্রান্স। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক সংস্থা অপ্টার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ম্যাচে এগিয়ে ফ্রান্স।সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারের পর ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাংশ টুখেলের কৌশলকে 'পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি' বলে উল্লেখ করেছে। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক গ্যারি লিনেকারও প্রশ্ন তুলেছেন, বড় মঞ্চে দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার জন্যই টুখেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্তই দলের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর ফুটবলারদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করাই ছিল দুই কোচের বড় চ্যালেঞ্জ। ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশঁ এবং ইংল্যান্ডের থমাস টুখেল—দু'জনেই স্বীকার করেছেন, ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার হতাশা কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়। তবে শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে মরিয়া দুই দলই।ই ম্যাচকে ঘিরে একাধিক বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, ফ্রান্সের কোচ হিসেবে এটাই হতে চলেছে দিদিয়ের দেশঁর শেষ ম্যাচ। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফরাসি জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলানোর পর তিনি বিদায় নিচ্ছেন। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই প্রায় ২৫ বছর ধরে ফরাসি ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত দেশঁর বিদায় নিঃসন্দেহে আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকবে। দেশঁর কোচিংয়ে ফ্রান্স বিশ্ব ফুটবলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাঁর নেতৃত্বেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয় করে 'লে ব্লু'। এছাড়াও একাধিক বড় টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তাই তাঁর শেষ ম্যাচে জয় উপহার দিতে মরিয়া ফরাসি ফুটবলাররা।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেলের সামনে রয়েছে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করতে পারলে সমালোচনার কিছুটা হলেও জবাব দিতে পারবেন জার্মান এই কোচ। এছাড়াও ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের খেলা নিয়েও রয়েছে জল্পনা। পাশাপাশি ফ্রান্সের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এন'গোলো কান্তের এটি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ হতে পারে বলেও জোর গুঞ্জন রয়েছে। ফলে আবেগ, সম্মান এবং ভবিষ্যতের বার্তা—সব মিলিয়ে এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।