বিদেশের মাটিতে ইতিহাস,দুরন্ত লড়াই লাল-হলুদের, এশিয়ার মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই এল পয়েন্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা: এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের মঞ্চে নতুন অধ্যায় শুরু করল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র (ACL Two) মূলপর্বে খেলতে নেমেই বিদেশের মাটিতে পয়েন্ট সংগ্রহ করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। জর্ডনে আল হুসেনের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরল ইস্টবেঙ্গল।বিশ্বকাপ খেলে আসা একাধিক ফুটবলার সমৃদ্ধ আল হুসেনের বিরুদ্ধে চোট-আঘাত ও অনুপস্থিতির ধাক্কা সামলে যে লড়াই ইস্টবেঙ্গল উপহার দিল, তা নিঃসন্দেহে নজর কাড়ল।গতবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই ইস্টবেঙ্গলের এশীয় অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। ACL Two-র প্রিলিমিনারি রাউন্ডে আল আরবিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে মূলপর্বে জায়গা করে নেয় দল। আর মূলপর্বের প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় তাদের। তার উপর ম্যাচটি ছিল প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে।এদিন ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে ছিলেন বঙ্গসন্তান সন্দীপ মাণ্ডি। চোট নিয়েও দলের নেতৃত্ব দিতে মাঠে নামেন অধিনায়ক মহম্মদ রশিদ।

তবে দলের সঙ্গে যেতে পারেননি বরিস সিং ও ক্রিস ইকোনমেডিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। বিদেশি স্ট্রাইকারের অনুপস্থিতিও ছিল বড় সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কৌশলের উপরই ভরসা রেখে মাঠে নামে লাল-হলুদ।নেপালে হড়পা বানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ম্যাচের সূচনা হয়। প্রতিপক্ষ আল হুসেনের প্রথম একাদশে ছিলেন সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা ইয়াজিদ আবুলায়লা, সালিম ওবেদ এবং মাহমুদ আল মারদি। তাঁদের মধ্যে মারদি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ইস্টবেঙ্গল। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় দানি রামিরেজের গোলে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। এরপরও আক্রমণের ঝাঁঝ বজায় রাখে তারা। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

৩৩ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। আনোয়ার আলির দুর্দান্ত হেডার থেকে আসে দ্বিতীয় গোল। ফলে প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল লাল-হলুদ। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপার সমৃদ্ধ আল হুসেন তখন কার্যত দিশেহারা।তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসতে শুরু করে জর্ডনের দল। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণেও দেখা যায় কিছুটা অস্থিরতা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে খেলা মাহমুদ আল মারদি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে দেন।

এরপর ম্যাচের শেষদিকে ইস্টবেঙ্গলের উপর চাপ বাড়াতে থাকে আল হুসেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সংযুক্ত সময়ে গিয়ে সমতা ফেরায় জর্ডনের দল। আহমাদ আশাফের গোলে ২-২ হয়ে যায় ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত আর কোনও গোল না হওয়ায় ড্রতেই শেষ হয় ইস্টবেঙ্গলের এশীয় অভিযান শুরুর প্রথম ম্যাচ।দুই গোলে এগিয়ে থেকেও জয় হাতছাড়া হওয়ায় আক্ষেপ থাকবেই লাল-হলুদ শিবিরে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে। তবে বিশ্বকাপারদের নিয়ে গড়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে লড়াই করে এক পয়েন্ট আদায় করে নেওয়া ইস্টবেঙ্গলের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ শুরু।ACL Two-তে প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়ে ঝুলিতে এল এক পয়েন্ট। এবার পরবর্তী ম্যাচগুলিতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জয় তুলে নেওয়াই লক্ষ্য লাল-হলুদের।