নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আবহে ছাত্রকল্যাণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল Indian Institute of Technology Kharagpur। প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল তাদের ‘Mental Health and Well-Being Policy’, যা ক্যাম্পাসে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাকে আরও শক্তিশালী ও সহজলভ্য করে তুলবে। এই উদ্যোগকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক যুগান্তকারী মাইলফলক বলেই মনে করা হচ্ছে।প্রচলিত কাঠামোগত পরিষেবার বাইরে গিয়ে এই নীতির মাধ্যমে একটি গভীর, কর্মমুখী ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে মানসিক সুস্থতাকে ক্যাম্পাস জীবনের দৈনন্দিন অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে ‘SETU’—Support, Empathy, Transformation & Upliftment। নামের মতোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল বিচ্ছিন্নতা থেকে সংযোগ, মানসিক চাপ থেকে স্থিতি এবং দুর্বলতা থেকে আত্মবিশ্বাসের দিকে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

এই নীতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন Professor Suman Chakraborty। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক পার্থ পি. চক্রবর্তী, SETU-র উপদেষ্টা অধ্যাপক মানস কুমার মণ্ডল, ডিন (অনুষদ) অধ্যাপক সোমেশ কুমার, ডিন (শিক্ষার্থী কল্যাণ) অধ্যাপক অরুণ চক্রবর্তী, এবং রেজিস্ট্রার ক্যাপ্টেন অমিত জৈন। শিক্ষক, কাউন্সেলর, কর্মী ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

এই নীতির মূল লক্ষ্য সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ, কাউন্সেলিং পরিষেবার সহজলভ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। একান্ত থেরাপি, মনোবিদের পরামর্শ, ২৪x৭ অনলাইন কাউন্সেলিং, হোস্টেল-স্তরের সাপোর্ট ইউনিট এবং AI-ভিত্তিক প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও এর অংশ। শিক্ষাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠান।শিক্ষা মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু একটি নীতি চালু করা নয়, বরং একটি সহমর্মী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও যত্নশীল ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। আইআইটি খড়্গপুরের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কাছেও একটি মডেল হিসেবে উঠে আসতে পারে।