অর্ণব’-এর বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কোলাঘাট, ফের জলমগ্ন একাধিক গ্রাম

অর্ণব’-এর বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কোলাঘাট, ফের জলমগ্ন একাধিক গ্রাম

নারায়ণ চন্দ্র নায়ক: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ফের জলবন্দি হয়ে পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃন্দাবনচক, সিদ্ধা-১ ও ২, খন্যাডিহি, পুলশিটা, সাগরবাড়, দেড়িয়াচক এবং ভোগপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক মৌজায় নতুন করে জল জমে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা।চলতি বর্ষার শুরু থেকেই ওই এলাকায় জল জমার সমস্যা দেখা দিয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে দাবি, প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি মৌজা দীর্ঘদিন ধরে জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। দেহাটি ও সোয়াদিঘী মূল খাল-সহ সংশ্লিষ্ট ছোট খালগুলি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং বিভিন্ন স্লুইশগেটের মুখে বেআইনি মাছের ভেড়ি তৈরি হওয়ার কারণে বর্ষার জল স্বাভাবিকভাবে খালপথে নদীতে নামতে পারছে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।আগস্টের শুরু থেকে প্রায় দু’মাস ধরে জলযন্ত্রণায় ভুগেছেন বহু মানুষ। কয়াআয়মাচক, শ্রীধরবসান, উত্তর জিঞাদা-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ রাস্তার উপরেও দীর্ঘদিন জল দাঁড়িয়ে ছিল। বাঁকাডাঙ্গা, কয়াডাঙ্গী, দেউলবাড়-সহ আরও কয়েকটি গ্রামের পাড়ার রাস্তাতেও জল জমে থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বাসিন্দাদের।জলমগ্নতার জেরে কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বহু জমিতে আমন ধানের চাষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে ফুলচাষ ও মাছচাষও। অথচ সরকারি নিয়মে এখনও পর্যন্ত ব্লকের কোনও মৌজাকেই ‘ক্ষতিগ্রস্ত মৌজা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বলে অভিযোগ।সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে সম্প্রতি জলবন্দি এলাকার বাসিন্দারা কৃষক সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে কোলাঘাট বিডিও অফিসে বিক্ষোভ অভিযানে সামিল হন। এরপর কোলাঘাটের বিডিও সেচ দফতরের এসডিওকে সঙ্গে নিয়ে জলমগ্ন এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন। জমা জল দ্রুত নিষ্কাশনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে খালের কয়েকটি অংশে কচুরিপানা ও আবর্জনা পরিষ্কার করা হলে জমা জল দ্রুত নামতে শুরু করে। কিছুটা স্বাভাবিক হয় জনজীবন।কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হল না। গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে ফের জল জমে গিয়ে পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ফলে পুজোর আগে পরিস্থিতি কীভাবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে চিন্তায় এলাকার বাসিন্দারা।কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়কের অভিযোগ, “সেচ ও প্রশাসনিক দফতরের গাফিলতির কারণেই গ্রামের মানুষকে প্রায় দু’মাস ধরে জলবন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছে। পুজো আসতে আর এক মাসও বাকি নেই। বর্তমান বৃষ্টিতে যে জল জমেছে, তা এক মাসের মধ্যে বের হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।”তাঁদের দাবি, অবিলম্বে জমা জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা শেষ হওয়ার পর দেহাটি, সোয়াদিঘী-সহ সমস্ত নিকাশি খাল পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার এবং স্লুইশগেটগুলির সামনে থাকা বেআইনি মাছের ভেড়ি সরিয়ে জলনিকাশির স্থায়ী ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে।