জঙ্গলমহলের গোপীবল্লভপুরে আইনি সচেতনতা শিবির, আইন ও অধিকার নিয়ে কর্মীদের সচেতনতা!
নিজস্ব সংবাদদাতা : জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনি সচেতনতা বাড়াতে গোপীবল্লভপুরে অনুষ্ঠিত হল বিনামূল্যের আইনি সচেতনতা শিবির। বুধবার ছাতিনশোল ব্লক অফিসের অডিটোরিয়াম হলে ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়। গোপীবল্লভপুর থানা এলাকার বিভিন্ন কাজে যুক্ত কর্মীরা শিবিরে অংশ নেন।শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদী।

তিনি যৌতুকবিরোধী আইন, জিগ ওয়ার্কারদের সুরক্ষা, ক্রেতা সুরক্ষা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ে উপস্থিত কর্মীদের সচেতন করেন। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আইনি অধিকার কী এবং প্রয়োজনের সময় কীভাবে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের প্যানেল আইনজীবী উত্তম বেজ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি, অধিকার মিত্র রীতা দাস দত্ত স্থানীয় সুবর্ণরৈখিক ভাষায় বক্তব্য রেখে সাধারণ মানুষ জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কী কী পরিষেবা পেতে পারেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানান। আইনি সহায়তা পেতে কোথায় এবং কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে, তাও তিনি ব্যাখ্যা করেন। সাধারণ মানুষের পাশে সবসময় থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।

এদিন গোপীবল্লভপুর-১ নম্বর ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুশান্ত কুণ্ডু দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। সরকারি পরিষেবা ও প্রকল্পের সুযোগ কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, সে বিষয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।অন্যদিকে, গোপীবল্লভপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর সেক সরফরাজ নাওয়াজ সাইবার অপরাধ ও অনলাইন আর্থিক প্রতারণা নিয়ে সচেতন করেন উপস্থিতদের।

অনলাইনে প্রতারণার হাত থেকে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায় এবং সাইবার অপরাধের শিকার হলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।শিবিরে গোপীবল্লভপুর-১ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অধিকার মিত্র তারেকেশ্বর রানা, নীলকণ্ঠ ঘোড়াই, মোহিত বেজ ও আলোক সিংহ-সহ অন্যান্যরা উপস্থিত থেকে শিবিরে সহযোগিতা করেন।আইনি পরিষেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনের সময়ে তাঁদের কাছে আইনি সহায়তার সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই এই ধরনের শিবিরের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।