আহমদ হুসাইন লস্কর, হাইলাকান্দি, আসাম, ১ মে : আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আসামের বিভিন্ন জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল ‘মে দিবস’। শিলচর শহরে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির পাদদেশে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির উদ্যোগে এক বিশাল সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দাবিতে সরব হন নেতৃবৃন্দ।সিটু, এআইইউটিইউসি, এআইসিসিটিইউ, এআইটিইউসি, টিইউসিসি ন্যাশনাল, এআইকেএস, টিইউসিসি কাছাড় এবং ইডাব্লিউটিসিসি—এই সব শ্রমিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শহীদ বেদী নির্মাণ করে মাল্যদান করা হয়। সমাবেশে শ্রমিক নেতা সুপ্রিয় ভট্টাচার্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সমর্থন করেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।বক্তারা তাঁদের ভাষণে তুলে ধরেন ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার হে মার্কেটের ঐতিহাসিক শ্রমিক আন্দোলনের কথা, যেখানে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আত্মবলিদান বিশ্ব শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন দিশা দেখিয়েছিল। সেই ঐতিহ্যকে স্মরণ করেই আজও বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মে দিবস।বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, একদিকে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে সম্পদ ক্রমশ কর্পোরেটদের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধের আবহ, বিশেষত গাজা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।ভারতের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিরও তীব্র সমালোচনা করা হয়। অভিযোগ তোলা হয়, শ্রম আইনগুলিকে একত্রিত করে নতুন শ্রম কোডে রূপান্তরের মাধ্যমে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ৮ ঘণ্টার কাজের পরিবর্তে ১২ ঘণ্টা কাজ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি না হওয়া এবং মূল্যবৃদ্ধির লাগামছাড়া পরিস্থিতি শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।বিশেষ করে আসামের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, গত দশ বছরে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার চা শ্রমিকদের মজুরিতে বৈষম্য রয়েছে। বরাক উপত্যকায় চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ২৫৮ টাকা হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি, আশা ও মধ্যাহ্নভোজন কর্মীদের ভাতা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন বলেও অভিযোগ করা হয়।সমাবেশ শেষে একটি বৃহৎ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে। সেন্ট্রাল রোড, নাজির পট্টি হয়ে প্রেমতলার গোলদিঘি মলের সামনে গিয়ে শেষ হয় মিছিল। সেখানে পুনরায় শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।শুধু শিলচর নয়, হাইলাকান্দি সহ আসামের অন্যান্য জেলাতেও দিনভর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় মে দিবস। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দাবিতে এই দিনের তাৎপর্য আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল রাজ্যজুড়ে।
