নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোট শেষ হতেই যেন মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি কোপ। একধাক্কায় প্রায় হাজার টাকা বেড়ে গেল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম। আর এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়েই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কয়েকদিন আগেই তিনি সতর্ক করেছিলেন—পাঁচ বিধানসভার ভোট মিটলেই বাড়তে পারে জ্বালানির দাম। বাস্তবে সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ভোট পরবর্তী সময়েই প্রথম ধাক্কা দিল বাণিজ্যিক এলপিজিতে। ১৯ কেজির সিলিন্ডার পিছু একলাফে ৯৯৩ টাকা দাম বেড়েছে, যা একদিনে নজিরবিহীন বৃদ্ধি বলে দাবি বিরোধীদের। শুধু বাণিজ্যিক গ্যাসেই থেমে থাকেনি মূল্যবৃদ্ধি। অটোচালকদেরও বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে এলপিজি অটোর জ্বালানি। প্রতি লিটারে ৬ টাকা ৪৪ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে যাতায়াত খরচে। সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল গান্ধী লেখেন, “আগেই বলেছিলাম, ভোটের পরই মূল্যবৃদ্ধির কোপ নামবে। আজ বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৯৯৩ টাকা বেড়েছে—এটাই একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। এ যেন ভোটের খরচের বিল মেটানো।” তাঁর দাবি, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মাত্র তিন মাসে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ১,৩৮০ টাকা, যা প্রায় ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। চায়ের দোকান, ধাবা, হোটেল, বেকারি থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকান—সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়বে। ফলে খাবারের দামও বাড়তে বাধ্য, যার চাপ গিয়ে পড়বে আমজনতার থালায়। এখানেই থামছেন না বিরোধী দলনেতা। তাঁর স্পষ্ট সতর্কবার্তা—এটি কেবল শুরু। খুব শীঘ্রই পেট্রল ও ডিজেলের দামও বাড়তে পারে। অতীতে তাঁর একাধিক পূর্বাভাস মিলে যাওয়ার নজির রয়েছে। এবারও যদি সেই আশঙ্কা সত্যি হয়, তাহলে মূল্যবৃদ্ধির এই আগুনে আরও পুড়তে হবে সাধারণ মানুষকে। ইতিমধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধিতে নাজেহাল দেশবাসী। তার উপর জ্বালানির এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এখন প্রশ্ন—এই চাপ সামাল দেবে কীভাবে সাধারণ মানুষ?
ভোট মিটতেই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা! একলাফে ৯৯৩ টাকা বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাস, মোদি সরকারকে নিশানায় রাহুল