নিজস্ব সংবাদদাতা : রবিবার জয়ের খাতা খুলেছিল কলকাতা, আর তার ঠিক পরদিন সোমবার আইপিএলে নিজেদের হারানো ছন্দ ফিরে পেল মুম্বই। অহমদাবাদের মাঠে গুজরাত টাইটান্সকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে ৯৯ রানের বিশাল জয় তুলে নিল হার্দিক পাণ্ড্যের দল। এই জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে তিলক বর্মা—যার ব্যাটে এল এক বিস্ফোরক শতরান। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় গুজরাত। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষমেশ তাদের জন্য ‘ব্যুমেরাং’ হয়ে দাঁড়ায়। শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না মুম্বইয়ের। মাত্র চতুর্থ ওভারের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার—কুইন্টন ডি কক ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা দানিশ মালেওয়ার। এরপর সূর্যকুমার যাদবও ফের ব্যর্থ। ১০ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফিরতেই চাপে পড়ে মুম্বই। কিছুটা লড়াই করেন নমন ধীর (৩২ বলে ৪৫), কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘোরান তিলক বর্মা।

প্রথমে ধুঁকতে থাকা তিলক ২২ বলে করেন মাত্র ১৯ রান। গ্যালারিতে তখন ব্যঙ্গ, হতাশা—সবই চলছে। ঠিক সেই সময় ‘স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউট’-এ অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্যের সঙ্গে কথোপকথনই যেন বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। তারপরই যেন অন্য তিলক! ঝড়ের গতিতে ব্যাট চালিয়ে মাত্র ৪৫ বলে পৌঁছে যান শতরানে। শেষ ৬ ওভারে মুম্বই তোলে ৯৬ রান—যার বড় অংশই আসে তিলকের ব্যাট থেকে। বিশেষ করে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের ওভারে তিলকের মারকাটারি ব্যাটিং গুজরাতকে পুরো ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয়। হার্দিক পাণ্ড্যের সঙ্গে ৩৮ বলে ৮১ রানের জুটি গড়ে তিলক মুম্বইকে পৌঁছে দেন ১৯৯/৫-এ। ২০০ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় গুজরাত। প্রথম বলেই সাই সুদর্শনকে ফিরিয়ে দেন জসপ্রীত বুমরাহ। পরের ওভারেই জস বাটলারও ফিরে যান হার্দিকের বলে। দুই ওভারে দুই বড় উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় গুজরাত। শুভমন গিল (১৪) ও ওয়াশিংটন সুন্দর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা বেশিক্ষণ টেকেনি। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় শেষমেশ ১০০ রানেই গুটিয়ে যায় গুজরাতের ইনিংস। মন্থর পিচে মুম্বইয়ের স্পিনারদের দাপটও ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যাট-বল—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে এই ম্যাচে একতরফা জয় ছিনিয়ে নেয় মুম্বই।