নিজস্ব সংবাদদাতা : ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহকদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনার বার্তা পৌঁছে দিতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মাইক্রোফিন্যান্স ইন্ডাস্ট্রি নেটওয়ার্ক (এমএফআইএন)-এর উদ্যোগে আয়োজিত হল একটি মাইক্রোফিন্যান্স সচেতনতা শিবির। শুক্রবার (১০ জুলাই, ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির সহযোগিতায় ছিল এল অ্যান্ড টি ফিনান্স লিমিটেড।ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) স্বীকৃত এনবিএফসি-এমএফআই সংস্থাগুলির জাতীয় স্ব-নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এমএফআইএন দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এদিনের শিবিরে ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঞ্চয়, বিনিয়োগ, দায়িত্বশীল ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ, পারিবারিক বাজেট পরিকল্পনা, বীমার গুরুত্ব এবং ডিজিটাল ও আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এমএফআইএন-এর আঞ্চলিক প্রধান হাবিব শেখ।

তিনি বলেন, "আর্থিক সাক্ষরতা একজন মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। এই ধরনের সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করাই আমাদের লক্ষ্য।" তিনি জানান, বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আরবিআই-নিবন্ধিত ৪২টি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা পরিষেবা প্রদান করছে। ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের সচেতনতা শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার কাঞ্চন কান্তি দাস এবং ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার আকাশ কুমার শর্মা। তাঁরা আর্থিক সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ক্ষুদ্রঋণের অর্থ অন্য কারও কাছে হস্তান্তর না করাই উচিত। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তাঁরা জানান, এটিএম কার্ড, পিন নম্বর, ওটিপি কিংবা ব্যাংক সংক্রান্ত গোপন তথ্য কোনও অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ করা উচিত নয়, কারণ এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।বক্তারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে আর্থিক সচেতনতা শুধু সঞ্চয় বা ঋণ ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন এবং প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।