মেদিনীপুরে চা-চক্রে দিলীপ ঘোষ, তোলাবাজি-সিন্ডিকেট থেকে ভূতনির জলবন্দি—একাধিক ইস্যুতে নিশানা!

মেদিনীপুরে চা-চক্রে দিলীপ ঘোষ, তোলাবাজি-সিন্ডিকেট থেকে ভূতনির জলবন্দি—একাধিক ইস্যুতে নিশানা!

সেখ ওয়ারেশ আলী : সাতসকালে মেদিনীপুর শহরের সার্কিট হাউস থেকে বেরিয়ে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে চা-চক্রে যোগ দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দিনভর দলের কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। মেদিনীপুরে একাধিক স্থানীয় ও রাজনৈতিক ইস্যুতেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন দিলীপ।মেদিনীপুরে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের দাবি, এই সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকার সদ্য দায়িত্ব নিয়েছে, তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে অপরাধ দমনে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কেউই ছাড় পাবে না।

কাকদ্বীপে দম্পতি খুনের ঘটনায় দীর্ঘদিন পর চার্জশিট পেশ প্রসঙ্গেও সরব হন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বহু অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তরা শাস্তি পায়নি। বর্তমানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।এদিকে ২ হাজার টাকার বেশি কেনাকাটায় ০.৪ শতাংশ MDR বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গেও মত জানান দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে এখনও নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। তাই আগে পুরো বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন। ডিজিটাল লেনদেনের পরিকাঠামো তৈরি করতে সরকারও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে বলে দাবি করেন তিনি।ভূতনির জলবন্দি পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন বিজেপি নেতা। তাঁর মতে, গঙ্গার মধ্যে দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় ভূতনিতে জলবন্দির সমস্যা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকেও জল জমার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এবং সাধারণ মানুষ—দু’পক্ষকেই সতর্ক থাকার বার্তা দেন দিলীপ।

কাকুলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে কুণাল ঘোষের মন্তব্য এবং এফআইআর প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে সংযত থাকা প্রয়োজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কার নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক ভবনটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং অর্থের অভাবে কাজ এগোয়নি।

বর্তমানে সরকার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। তবে সংস্কারের নামে ঐতিহাসিক সম্পদের ক্ষতি বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সবশেষে কালীঘাট ও ঋতব্রতকে ঘিরে তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের উপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোন প্রতীকে নির্বাচনে লড়বে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনই নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।