নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি প্রদীপ করকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। তাঁর বিপুল সম্পত্তি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বালিচক এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ করের নামে গত প্রায় ১৫ বছরে ৬৪টি জমির প্লট কেনা হয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অনুমান।এছাড়াও পাকুই গ্রামের কাছে বিস্তীর্ণ জমির উপর তৈরি হয়েছে একটি বিলাসবহুল বাগানবাড়ি। প্রায় তিন বিঘার বেশি এলাকাজুড়ে থাকা ওই সম্পত্তিতে রয়েছে তিনতলা বাড়ি, পুকুর, মাছচাষ, ফুল ও ফলের বাগান।

স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, কোনও বড় ব্যবসা বা স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও এত বিপুল সম্পত্তি কীভাবে গড়ে উঠল?রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই বিষয়গুলি নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এক পুরনো মামলায় জনজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে (POA) গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রদীপ করকে। বুধবার গভীর রাতে বালিচকের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে খড়্গপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানালেও বিচারক শুক্রবার ফের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।একই দিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল যুব নেতা তরুণ মিশ্রকেও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছে।এলাকার বাসিন্দা, দাবী জানিয়েছে পুরো সম্পত্তি এবং বাগানবাড়ি কীভাবে হলো, তার তদন্ত হওয়া উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ?