নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ফুটবল বিশ্বের দুই ঐতিহ্যবাহী শক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ইতিহাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সমর্থকদের আবেগে ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব পেলেও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বাড়তি চাপ নিতে নারাজ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—এটা আরও একটা ফুটবল ম্যাচ। ম্যাচ শেষে স্কালোনির আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যই যেন আর্জেন্টিনার বর্তমান মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। তাঁর কথায়, "আমাদের দলটা এমনই। কোণঠাসা না হলে ঘুরে দাঁড়ায় না।"

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে কঠিন লড়াইয়ের পর হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে সুইসদের প্রবল চাপে পড়ে যায় দল। সেই সময় কৌশলগত পরিবর্তন এনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফেরান স্কালোনি। তাঁর সিদ্ধান্তেই ঘুরে দাঁড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্কালোনি বলেন, "ফুটবলারদের আমি একটাই কথা বলেছি—এটা আরেকটি ফুটবল ম্যাচ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, তাদের কোচও অসাধারণ। কিন্তু আমরা নিজেদের খেলায় মনোযোগী থাকতে চাই।" তিনি আরও বলেন, "সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিলাম। তবে এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো লড়াই করার মানসিকতা। কঠিন সময় এলেও খেলোয়াড়রা বিশ্বাস হারায় না। আগের তুলনায় এখন আমরা অনেক বেশি পরিণত এবং অভিজ্ঞ।"

২০১৮ সালের বিশ্বকাপের হতাশা থেকে শুরু করে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের পথচলায় স্কালোনির ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। নীরবে, প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত দল, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লড়াই চালিয়ে যেতে জানে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে অতীতের নানা স্মৃতি ফিরে এলেও স্কালোনির দৃষ্টিতে অতীত নয়, বর্তমানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর লক্ষ্য কেবল সেরা ফুটবল খেলেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, অধিনায়ক লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, দলের ঐক্য এবং স্কালোনির কৌশলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। তবে সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিখুঁত পারফরম্যান্সই হবে জয়ের মূল চাবিকাঠি। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই পরাশক্তির এই মহারণে শেষ হাসি কে হাসবে, তার উত্তর মিলবে মাঠেই।
