Skip to content

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘বাংলার ফড়িং’, জীববৈচিত্র্য গবেষণায় নতুন সংযোজন!

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা ও বনবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে সম্প্রতি এক গৌরবময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হল গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘বাংলার ফড়িং’। বইটির রচয়িতা ড. সৌরভ দোয়ারী এবং বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক অমল কুমার মণ্ডল। কলকাতার নেচার মেটস প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর। এই উপলক্ষে বিভাগে আয়োজিত হয় একদিনের একটি সেমিনার। সেখানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক কৃষ্ণেন্দু আচার্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক পরেশ কুমার জানা, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক প্রকাশ কর্মকার, অধ্যাপক দেবদুলাল ব্যানার্জী, অধ্যাপক আশিষ কুমার নন্দী, অধ্যাপিকা নীলাঞ্জনা ব্যানার্জী এবং অধ্যাপক গুঞ্জন বিশ্বাস সহ বিভাগের বহু শিক্ষক, গবেষক ও ছাত্রছাত্রী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর বলেন, “এই ধরনের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আরও তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণামূলক বই প্রকাশিত হবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ আরও প্রসারিত হবে উল্লেখযোগ্যভাবে, লেখকদ্বয়ের এটি চতুর্থ গ্রন্থ। এর আগে তাঁদের লেখা ‘হাওড়া জেলার প্রজাপতি’, ‘প্রেয়িং ম্যান্টিস’ এবং ‘বাংলার জলজ উদ্ভিদ’ বইগুলি গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে। নতুন প্রকাশিত ‘বাংলার ফড়িং’ গ্রন্থে বাংলার বিভিন্ন প্রজাতির ফড়িং সম্পর্কে বিশদ তথ্য, পরিচিতি এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে, যা গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হবে। অধ্যাপক অমল কুমার মণ্ডল ও ড. সৌরভ দোয়ারী দীর্ঘদিন ধরে জীববৈচিত্র্য বিষয়ক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।

বর্তমানে অধ্যাপক মণ্ডল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত Biodiversity and Germplasm Conservation Centre-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। উপাচার্যের দূরদর্শী পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা এই গবেষণা কেন্দ্রের লক্ষ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ ক্যাম্পাস প্রাকৃতিকভাবেই জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এই সম্পদ সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিকভাবে নথিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে একটি পূর্ণাঙ্গ বায়োডাইভার্সিটি পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়টি জঙ্গলমহল অঞ্চলে অবস্থিত, যা প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি উদ্ভিদবিদ্যা ও বনবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অমল কুমার মণ্ডল, তাঁর ছাত্র ড. রসিদুল ইসলাম এবং বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী ড. দেবেন্দ্র সিংহ যৌথ গবেষণার মাধ্যমে চারটি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কার জঙ্গলমহল অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধতাকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর অঞ্চলে এই ধরনের বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র ও গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রকাশ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ‘বাংলার ফড়িং’ গ্রন্থের প্রকাশনা শিক্ষাজগৎ ও গবেষণা ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Latest