Skip to content

শিলাবতীর উপর বাঁশের সাঁকো ভাঙার মুখে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত আট-দশ গ্রামের বাসিন্দাদের

সুমন মণ্ডল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা-২ ব্লকের ভগবন্তপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষকিরা গ্রামে শিলাবতী নদীর উপর নির্মিত একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি আবারও ভাঙনের মুখে। নদীতে জমে থাকা পানার প্রবল চাপে সাঁকোটি বিপজ্জনকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যদিও গ্রামবাসীদের দীর্ঘ চেষ্টায় আপাতত সাঁকোটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে, তবুও বর্ষার মরশুমে আতঙ্ক কাটেনি এলাকার মানুষের। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই শিলাবতী নদীর জলের স্রোত ও পানার চাপে বাঁশের সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ভেঙে যায়। এর ফলে ঘোষকিরা, শীর্ষা, কল্লা, খুড়শি, ধাইখণ্ড-সহ আট থেকে দশটি গ্রামের মানুষের সঙ্গে মূল এলাকার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে নৌকায় করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হয় সাধারণ মানুষকে। নদীর অপর প্রান্তেই রয়েছে চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ভগবন্তপুর জ্ঞানদা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়। ফলে প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, অসুস্থ রোগী, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো বা নৌকার উপর নির্ভর করেই যাতায়াত করতে হয়। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব মণ্ডল বলেন,"এটি বহু বছরের সমস্যা। প্রতি বর্ষাতেই বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। তখন নৌকায় করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বহুবার প্রশাসনের কাছে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, শিলাবতী নদীর উপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।" এলাকাবাসীদের দাবি, শুধুমাত্র অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোর উপর নির্ভর করে বছরের পর বছর জীবনযাপন করা আর সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন যোগাযোগের স্বার্থে শিলাবতী নদীর উপর একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে আগামী দিনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে অবিলম্বে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

Latest