নিজস্ব সংবাদদাতা : বৃষ্টির মাঝেও উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি। রথযাত্রা উপলক্ষে মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় বসেছে বহু প্রতীক্ষিত রথমেলা। ভক্তদের ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্য এবং উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন হাজার হাজার মানুষ।

শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সংস্কার কমিটি-র উদ্যোগে আয়োজিত রথযাত্রা ও রথমেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় আরও বাড়তে থাকে। টানা বৃষ্টির মধ্যেও রথের দড়ি টানতে এবং প্রভু জগন্নাথদেবের দর্শন করতে ভক্তদের উৎসাহ ছিল নজরকাড়া।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মেদিনীপুরের এই জগন্নাথ মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন নিয়ম মেনে এখানে নিত্যভোগ নিবেদন করা হয়।

রথযাত্রা উপলক্ষে শ্রীজগন্নাথদেবকে মাসির বাড়ি হিসেবে পরিচিত নতুনবাজার মিনি মার্কেটের গুণ্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা থেকেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক কাহিনি ও জনশ্রুতি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাংলা ১২৬২ সালে মল্লিকবাড়ির জমিদার জন্মেজয় মল্লিক স্বপ্নাদেশ পান প্রভু জগন্নাথের। সেই নির্দেশ মেনে নদীর তীর থেকে নিমকাঠ সংগ্রহ করে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ নির্মাণ করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের সেবাইতরাই মন্দিরের সমস্ত দায়িত্ব পালন করতেন।পরবর্তীকালে গঠিত হয় শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সংস্কার কমিটি। ২০০২ সালে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে রথযাত্রা উৎসবের পরিসর ও জৌলুস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে নন্দীঘোষ, দেবদলন এবং তালধ্বজ—এই তিনটি সুসজ্জিত রথ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে।

রথের দড়ি টানতে প্রতিবছরের মতো এবারও অসংখ্য মানুষের সমাগম হয়। বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনই নয়, বছরভর বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সংস্কার কমিটি।

ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও এই কমিটির উদ্যোগ শহরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।ভক্তি, ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির মেলবন্ধনে এবারের মেদিনীপুরের রথযাত্রা ও রথমেলা শহরবাসীর কাছে আবারও এক স্মরণীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।