নিজস্ব সংবাদদাতা : আকস্মিক প্রবল বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত Bengaluru। শহরের Bowring and Lady Curzon Medical College-এর সীমানা প্রাচীর ধসে শিশুসহ অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। বিভিন্ন বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনা মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০।প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সন্ধ্যায় আচমকা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বহু পথচারী ও হকার ওই হাসপাতালের পুরনো দেওয়ালের ধারে দাঁড়ান। সেই সময়ই আচমকা ভেঙে পড়ে কংক্রিটের প্রাচীরটি, এবং মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন অনেকে। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও বেশ কয়েকজনকে আর বাঁচানো যায়নি। মৃতদের মধ্যে কেরলের দুই বাসিন্দাও রয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।দেয়াল ধসে নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—ফায়াজ আহমেদ (৩৯), মোহাম্মদ আব্দুল হক (৫২), মুসফিরা বেগম (৬), কে.কে. লতা (৫৭), স্মিতা (৪৭), মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (৩৬) এবং নাসিমুল্লাহ (১৯)।৩রা মে নিজের জন্মদিন উদযাপনের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনতে মুসফিরা বেগম তার মা মুবিন তাজ এবং খালা তাবরিন তাজের সঙ্গে জনাকীর্ণ শিবাজিনগর বাজারে গিয়েছিল।

ঘটনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে বৃষ্টির জেরে শহরের একাধিক এলাকা—রিচমন্ড টাউন, শান্তি নগর-সহ বিভিন্ন জায়গায় কোমরসমান জল জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরেও জল ঢুকে পড়ার খবর মিলেছে।

এই ঘটনার পর শহরের ভগ্নপ্রায় পরিকাঠামো নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে শহরের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও প্রাচীর চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে পুর কর্তৃপক্ষ।ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার ছুঁইছুঁই হওয়ায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ উপড়ে পড়ে, ভেঙে যায় অসংখ্য ডালপালা। এর জেরে রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত থমকে যায়।

এমজি রোড, ইন্দিরা নগর, কোরামাঙ্গলা ও বিটিএম লেআউট—শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নিচু অঞ্চলগুলিতে জলস্তর দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পৌঁছে যায়।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যার মধ্যে অন্তত ১৭০টি গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ৪০৮টি গাছের ডাল ভেঙে গেছে। মধ্য ও পশ্চিম বেঙ্গালুরুতেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বন্যা ও গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় নাগরিক পরিষেবা সংস্থাগুলির কাছে ৫০০-রও বেশি জরুরি ফোন আসে।এই দুর্যোগের ধাক্কা লেগেছে ব্যবসায়ও।

একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জলমগ্ন রাস্তা চিরে এগিয়ে চলেছে একটি সিটি বাস। কিন্তু সেই দৃশ্য মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয়, যখন প্রবল বৃষ্টির জল স্রোতের মতো বাসের ভেতরে ঢুকে পড়তে শুরু করে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা কার্যত হতভম্ব হয়ে পড়েন, বাসের ভিতরেই তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের আবহ। চার্চ স্ট্রিটের পরিচিত বইয়ের দোকান ‘বুকওয়ার্ম’-এ বৃষ্টির জল ঢুকে প্রায় ৫,০০০ বই নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রকৌশলী দল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি পরিদর্শনে নামছে। পাশাপাশি আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় মাঝেমধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—ফলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নাগরিকদের।