নিজস্ব সংবাদদাতা : আজ ১ মে, সুরের জাদুকর Manna Dey-এর জন্মদিন। প্রেম, বিরহ, দর্শন আর জীবনের নানা অনুভূতিকে যিনি গানে গানে বুনে দিয়েছিলেন—তাঁর সুর আজও থরথর করে বেজে ওঠে বাঙালির হৃদয়ের তারে।

‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা’, ‘সে আমার ছোট বোন’, ‘যদি কাগজে লেখো নাম’, ‘যদি হিমালয় আল্পসের’, ‘এ ভাই জरा দেখকে চলো’, ‘ইয়ে রাত ভিগি ভিগি’ কিংবা ‘প্যায়ার হুয়া একরার হুয়া’—একাধিক কালজয়ী গানে তিনি হয়ে উঠেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের প্রিয় কণ্ঠ। বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, গুজরাতি-সহ মোট ২৪টি ভাষায় গান গেয়ে নিজের অসামান্য বহুমুখিতা প্রমাণ করেছেন এই মহান শিল্পী।

Lata Mangeshkar-এর সঙ্গে তাঁর গাওয়া ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ আজও শ্রোতাদের আবেগে ভাসায়।

১৯১৯ সালের ১ মে, Kolkata-য় জন্মগ্রহণ করেন মান্না দে। প্রথম জীবনে আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও, কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে-র অনুপ্রেরণায় সঙ্গীতকেই জীবনের পথ হিসেবে বেছে নেন। ১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’ ছবির মাধ্যমে তাঁর প্লেব্যাক জগতে অভিষেক ঘটে।

তাঁর সংগীত জীবনে Sachin Dev Burman-এর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সহকারী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের স্বকীয়তা দিয়ে তিনি জায়গা করে নেন শ্রোতাদের হৃদয়ে।

অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭১ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০০৭ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হন। এছাড়াও চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট সহ অসংখ্য সম্মান তাঁর ঝুলিতে।সঙ্গীতের আকাশে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—যাঁর আলো কখনও ম্লান হওয়ার নয়। এই মহান শিল্পীর জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও প্রণাম।