Skip to content

আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা, ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল ঘিরে চাঞ্চল্য!

সেখ ওয়ারেশ আলী : রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে বৃহস্পতিবার এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট। আইনজীবীর কালো কোট ও সাদা ব্যান্ড পরে আদালতে হাজির হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। দীর্ঘদিন পর তাঁকে ফের আইনজীবীর ভূমিকায় দেখে আদালত চত্বরে তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোড়ন।বৃহস্পতিবার সকালেই কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে এদিন তিনি সম্পূর্ণভাবে একজন আইনজীবীর ভূমিকায় নিজেকে তুলে ধরেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বহুচর্চিত ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অংশ নিতেই তাঁর এই উপস্থিতি। প্রধান বিচারপতি Sujoy Paul-এর এজলাসে মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেই শুনানিতে নিজেই আইনি যুক্তি ও বক্তব্য পেশ করতে পারেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, প্রশাসন ও নির্বাচনী ময়দানে বহুবার সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গেলেও, আদালতে সরাসরি সওয়াল করার এই দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

এদিন হাইকোর্ট চত্বরে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, আইনজীবীর পোশাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রথমবার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করছি। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। প্রতিদিন অভিযোগ আসছে, ঘরবাড়ি লুট হচ্ছে, আগুন লাগানো হচ্ছে। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না। আদালতের অনুমতি পেলে অতিরিক্ত হলফনামায় এই অভিযোগগুলি উল্লেখ করব। রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনও বুলডোজার রাজ্য নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ।”অন্যদিকে রাজ্যের আইনজীবী Dhiraj Trivedi পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, অভিযোগগুলির কোনও নির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। তাঁর বক্তব্য, “কে, কখন অভিযোগ করেছেন, তার বিস্তারিত কিছুই বলা হয়নি। রাজ্যের পুলিশ সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে।”রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র আইনি লড়াই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। আইন পেশার সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্ক থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মামলায় তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

Latest