Skip to content

মেদিনীপুর মেডিক্যালে ফের মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিতর্ক, তদন্তে স্বাস্থ্যদপ্তরের টিম; রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

অভিজিৎ সাহা : মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ফের মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্যালাইনের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছেছে স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রতিনিধি দল। হাসপাতালের সুপার ও মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা মানসী দে-কে গত ৫ জুলাই কিডনি ও হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যার কারণে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাঁর স্ট্রোক হয়েছে বলে জানা যায়। বুধবার সকালে চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়। রোগীর পরিবারের দাবি, বিকেলের দিকে মানসী দেবীর বুকে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হলে তাঁর ছেলে স্যালাইনের বোতল পরীক্ষা করেন। তখনই তিনি দেখতে পান, স্যালাইনের গায়ে উল্লেখিত মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসেই শেষ হয়েছে। এরপরই বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত তদন্তে নামে স্বাস্থ্যদপ্তর। সূত্রের খবর, তদন্তকারী প্রতিনিধি দল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে পারে। তদন্ত শেষে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট স্বাস্থ্যদপ্তরে জমা দেওয়া হবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “রিপোর্ট তলব করেছি। তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে কেন্দ্র করে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিতর্ক সামনে এসেছিল। সে সময় পাঁচ প্রসূতিকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও পরবর্তী পরীক্ষার পর রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট স্যালাইনে কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি।বর্তমান ঘটনাতেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের তদন্ত রিপোর্টের দিকেই এখন নজর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রোগীর পরিবার এবং সাধারণ মানুষের।

Latest