Skip to content

বিশ্বকাপে ইতিহাসের পর ইতিহাস, এমবাপ্পের সামনে এখন শুধু মেসি!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু বিশ্বকাপ আসে, যেখানে একজন ফুটবলার নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে গোটা টুর্নামেন্টের রূপই বদলে দেন। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সেই ভূমিকাতেই দেখা যাচ্ছে ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। গোল, অ্যাসিস্ট, রেকর্ড এবং বড় ম্যাচে ম্যাচ জেতানোর অসাধারণ দক্ষতায় তিনি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যেখানে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তাঁর নাম এখন স্বাভাবিকভাবেই উচ্চারিত হচ্ছে। মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স ছিল তাঁর গোটা বিশ্বকাপ অভিযানেরই প্রতিচ্ছবি। মাত্র ৭৭ মিনিট মাঠে থেকে তিনি ৪৪ বার বল স্পর্শ করেন, ৩১টি পাসের মধ্যে ২৬টি সফল করেন, তৈরি করেন ৪টি গোলের সুযোগ, জেতেন ৩টি দ্বৈরথ, আদায় করেন ২টি ফাউল এবং ৪টি শটের মধ্যে ২টি রাখেন লক্ষ্যে। ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ফ্রান্সকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন তিনি। বড় মঞ্চে বড় খেলোয়াড়রা যেভাবে নিজেদের প্রমাণ করেন, এমবাপ্পে আরও একবার সেটাই দেখিয়ে দিলেন। চলতি বিশ্বকাপে মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলেই তাঁর পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য।

ইতিমধ্যেই করেছেন ৮টি গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট, অর্থাৎ ফ্রান্সের মোট ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল, ইরাকের বিরুদ্ধে আরও দুটি গোল, নরওয়ের বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট, সুইডেনের বিরুদ্ধে আবার জোড়া গোল, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি গোল এবং মরক্কোর বিরুদ্ধে এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট—প্রতিটি ম্যাচেই ফ্রান্সের আক্রমণের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন এই ফরাসি তারকা। এই দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে একের পর এক ঐতিহাসিক রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়ে নিচ্ছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অন্তত ১০টি করে গোল-অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) রেখেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে তাঁর ঝুলিতে ছিল ৮টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই রয়েছে ৮টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ২০-এ। এই তালিকায় তাঁর সামনে রয়েছেন শুধুমাত্র লিওনেল মেসি, যার বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ২১। মাত্র ২৭ বছর ২০১ দিন বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করে এমবাপ্পে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও ভবিষ্যতে তাঁর নাগালের মধ্যেই থাকতে পারে। শুধু গোল করাই নয়, নকআউট পর্বে ধারাবাহিকতাতেও নতুন নজির গড়েছেন তিনি। ২০১৮ বিশ্বকাপে ৩টি, ২০২২ বিশ্বকাপে ৫টি এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ৪টি নকআউট গোল করে এমবাপ্পে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার, যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অন্তত তিনটি করে গোল করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এছাড়াও বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচের জয়সূচক গোল করার রেকর্ডও এখন এককভাবে তাঁর দখলে। মোট ৮টি ম্যাচে তাঁর গোলই ফ্রান্সকে জয় এনে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠার এই অসাধারণ ক্ষমতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। ফ্রান্স জাতীয় দলের জার্সিতেও নতুন ইতিহাস লিখেছেন এমবাপ্পে। মাত্র ১০৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৪টি গোল ও ৩৬টি অ্যাসিস্ট করে তিনি দেশের হয়ে ১০০টি গোল-অবদানের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতাও তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সম্পূর্ণ ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে—এটি শুধু ফ্রান্সের বিশ্বকাপ নয়, বরং কিলিয়ান এমবাপ্পের বিশ্বকাপ। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের কিংবদন্তিদের সারিতে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। এখন দেখার, ফাইনালের পথে এগিয়ে গিয়ে তিনি তাঁর সোনালি অধ্যায়কে আর কতটা সমৃদ্ধ করতে পারেন।

Latest