অভিজিৎ সাহা : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। Council for the Indian School Certificate Examinations পরিচালিত ২০২৬ সালের ICSE ও ISC পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হতেই চমকে দিল এক অভূতপূর্ব সাফল্য। এবারের মেধাতালিকার শীর্ষে উঠে এসে ইতিহাস গড়লেন উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমার Panihati-র ছাত্রী অনুষ্কা ঘোষ। ISC (দ্বাদশ শ্রেণি) পরীক্ষায় একেবারে নিখুঁত ফল—৪০০-তে ৪০০ নম্বর! সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম স্থান অর্জন করে নজির স্থাপন করেছেন অনুষ্কা। এই বিরল কৃতিত্বে শুধু তাঁর পরিবার বা বিদ্যালয় নয়, গর্বে ভাসছে গোটা বাংলা।বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর ICSE ও ISC—দুই ক্ষেত্রেই পাশের হার ৯৯ শতাংশের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে অন্যতম সেরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, মেয়েদের সাফল্যের হার ছেলেদের তুলনায় সামান্য বেশি।অনুষ্কার এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পানিহাটিতে উৎসবের আবহ। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন—সকলেই ভিড় জমিয়েছেন তাঁর বাড়িতে। নিজের সাফল্যের রহস্য জানাতে গিয়ে অনুষ্কা স্পষ্ট বলেছেন, নিয়মিত অধ্যবসায়, শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশ এবং পরিবারের নিরন্তর সমর্থনই তাঁকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে গবেষণামূলক উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষাবিদদের মতে, ডিজিটাল লার্নিংয়ের প্রসার, আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতির ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। শুধু শহর নয়, জেলা ও মফস্বলের ছাত্রছাত্রীরাও এবারের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নিয়েছে—যা রাজ্যের শিক্ষার বিস্তৃত উন্নতির ইঙ্গিত বহন করছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্যের নির্বাচন পর্ব শেষ হতেই নির্ধারিত সময় মেনে ফল প্রকাশ করে CISCE। দুপুর ১২টা নাগাদ ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও এসএমএস পরিষেবায় উপচে পড়ে পড়ুয়াদের ভিড়।অনুষ্কা ঘোষের এই অসামান্য সাফল্য নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। তবে শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করিয়ে দিয়েছেন—মেধাতালিকায় নাম না থাকলেই ব্যর্থতা নয়; প্রত্যেকের পথ আলাদা, প্রয়োজন শুধু সঠিক দিশা ও দৃঢ় মানসিকতা।