ইংল্যান্ড - ৬ (সাকা-৩ , রাইস, কনসা, বেলিংহ্যাম) | ফ্রান্স - ৪ (এমবাপে-২, বারকোলা, ডেম্বেলে)
নিজস্ব সংবাদদাতা : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা দেখলেন এক অবিশ্বাস্য গোলবন্যা। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শনিবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৬-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সদের জয়ের নায়ক বুকায়ো সাকা, যিনি দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। মাত্র ৩ মিনিটে ডেকলান রাইসের দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যায় দল। ১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে এজরি কনসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৩৭ ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করে সাকা ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান।

প্রথমার্ধে একেবারে দিশেহারা ফ্রান্স দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায়। কোচ দিদিয়ের দেশঁর কৌশলগত পরিবর্তনের পর মাঠে নেমেই আক্রমণের ঝড় তোলেন উসমান ডেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলা। এরই মধ্যে কিলিয়ান এমবাপে নিজের প্রথম গোল করে বিশ্বকাপে চলতি আসরে গোলসংখ্যা ৯-এ পৌঁছে দেন। এরপর বারকোলা ব্যবধান কমান, আর ৬৬ মিনিটে এমবাপের দ্বিতীয় গোল ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি করে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল তাঁর ২২তম গোল, যা তাঁকে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
তবে ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, তখনই আবার জ্বলে ওঠেন সাকা। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে ইংল্যান্ডকে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। স্টপেজ টাইমে ডেম্বেলে আরেকটি গোল করে ব্যবধান ৫-৪ করলেও শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টার গোল ইংল্যান্ডের ৬-৪ জয় নিশ্চিত করে।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করলেও কিলিয়ান এমবাপে ব্যক্তিগত কৃতিত্বে উজ্জ্বল। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০, যেখানে লিওনেল মেসির গোল ৮। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে ফরাসি সুপারস্টার। এছাড়া ২০১৮ সালে ৪ গোল, ২০২২ সালে ৮ গোল এবং ২০২৬ সালে ১০ গোল—তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ২২।

অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের এটি অন্যতম সেরা সাফল্য। শিরোপা হাতছাড়া হলেও তৃতীয় স্থান অর্জন করে টুর্নামেন্ট শেষ করলেন হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকারা। আর ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশঁর দীর্ঘ অধ্যায় শেষ হল কোনও পদক ছাড়াই। ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমবার কোনও ম্যাচে মোট ১০টি গোল হওয়ায় এই লড়াই ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।