হরমুজ় প্রণালীর কাছে ভারতীয় ট্যাঙ্কারে হামলা, ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ ভারতের

হরমুজ় প্রণালীর কাছে ভারতীয় ট্যাঙ্কারে হামলা, ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ ভারতের

নিজস্ব সংবাদদাতা:মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz ঘিরে ফের তীব্র উত্তেজনা। ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠতেই কূটনৈতিক স্তরে সরব হল নয়াদিল্লি। ঘটনায় নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত Mohammad Fattahi-কে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।শনিবার ব্রিটিশ সেনার তরফে প্রথম এই ঘটনার কথা জানানো হয়। তাদের দাবি, ইরানের ‘রেভলিউশনারি গার্ড’ বাহিনী দুটি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। ঘটনাটি ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, ‘জগ অর্ণব’ নামে একটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার, যাতে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল ছিল, সেটিকেই নিশানা করে গুলি চালানো হয়। ট্যাঙ্কারটি ইরাক থেকে ভারতে ফিরছিল। এর পিছনেই ছিল আরও একটি ভারতীয় জাহাজ ‘সানমার হেরাল্ড’। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে হরমুজ় প্রণালী পার হওয়ার সময় আরও চারটি ভারতীয় জাহাজ বাধার মুখে পড়ে বলেও জানা গিয়েছে।এই ঘটনার পরপরই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রদূত ফাতালির সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হরমুজ় প্রণালী ঘিরে টানাপড়েন চলছে। শুরুতে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘অবরুদ্ধ’ করার ঘোষণা করেছিল এবং সতর্ক করে দিয়েছিল, কোনও জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হতে পারে। যদিও পরে ভারত-সহ কিছু দেশের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে ওঠে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হরমুজ়ে অবরোধের ঘোষণা করে। তার জেরেই নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান অবরোধ তোলার ইঙ্গিত দিলেও, অন্যদিকে ফের কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করার কথা জানিয়েছে।এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় জাহাজে হামলার অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\n\\\\n\\n\\n\n\n