নিজস্ব সংবাদদাতা: রাশিয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনা নিয়োগে নতুন কৌশল নিয়েছে মস্কো। এবার সরাসরি নিশানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সিএনএন-এর হাতে পৌঁছনো একাধিক রুশ শিক্ষার্থীর সরাসরি বার্তায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের প্রায় সর্বত্র শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ড্রোন বা UAV বাহিনীতে নিয়োগের পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, আর শিক্ষার্থীদের কথায়, “চাপটা বিশাল।”প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের পরিচয় গোপন রাখা হলেও, তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং উন্মুক্ত উৎসে মিলতে থাকা ক্রমবর্ধমান তথ্য একসঙ্গে ইঙ্গিত দিচ্ছে—রাশিয়া অত্যন্ত নীরবে এমন এক অভিযান চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের প্রলোভন ও চাপের মাধ্যমে ড্রোন ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করা।এই পদক্ষেপ রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ইউক্রেনে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের জন্য সেনা সরবরাহ সচল রাখতে ক্রেমলিনকে কতটা জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। রণক্ষেত্রে ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি এবং মানবসম্পদের চাপ সামাল দিতে গিয়ে মস্কো এখন প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশলে তরুণ শিক্ষিত জনশক্তিকে টার্গেট করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, ২০২২ সালের শরতের সেই বিতর্কিত ‘আংশিক সেনা সমাবেশ’-এর পুনরাবৃত্তি এখনও পর্যন্ত এড়াতে পেরেছে ক্রেমলিন। সেই সময় লক্ষ লক্ষ রুশ পুরুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, সেনা নিয়োগে আরও সূক্ষ্ম এবং আগ্রাসী কৌশল আবার সামনে আসছে।আগের প্রচেষ্টার তুলনায় এবার কৌশল অনেক বেশি পরিকল্পিত। শিক্ষার্থীদের এক বছরের নির্দিষ্ট চুক্তি, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে দায়িত্ব, আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে উচ্চ-প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা—এমন নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে এটি আকর্ষণীয় সুযোগ বলে মনে হলেও, বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের মতে এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে অনির্দিষ্ট মেয়াদের সাধারণ সামরিক চুক্তি।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অনেক শিক্ষার্থী এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশ নাকি এখন জবরদস্তি, মানসিক চাপ এবং পরোক্ষ হুমকির পথ বেছে নিচ্ছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে রাশিয়ার ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষা ও সামরিক চাপের এই মিশ্রণ নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
যুদ্ধের চাপ বাড়তেই রাশিয়ার নজরে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা, সামরিক নিয়োগে নতুন কৌশল