নিজস্ব সংবাদদাতা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ফের বড়সড় পদক্ষেপ নিল ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz-এ দু’টি পণ্যবাহী জাহাজ বাজেয়াপ্ত করল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। আটক জাহাজের মধ্যে একটি ভারতমুখী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে।জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া জাহাজ দু’টির নাম ‘এপামিনোডস’ এবং ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’। এর মধ্যে ‘এপামিনোডস’ লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এবং এটি দুবাইয়ের Jebel Ali Port থেকে গুজরাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার আগেই জাহাজ দু’টিকে আটক করে ইরানি সেনা। অন্যদিকে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’-র সঙ্গে ইজরায়েলের যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছে তেহরান।ইরানের সেনা বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ওই জাহাজ দু’টির কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না এবং তারা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ভঙ্গ করে চলাচল করছিল। এমনকি নেভিগেশন সিস্টেমে কারসাজির অভিযোগও আনা হয়েছে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। বর্তমানে জাহাজ দু’টিকে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।এদিকে, এই ঘটনার জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। Pakistan-এর তরফে জানানো হয়েছে, আলোচনায় যোগ দেওয়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি তেহরান। পাক তথ্যমন্ত্রী Attaullah Tarar জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা হলেও তাদের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত।পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা। ব্রিটিশ সেনার দাবি, বুধবার সকালে হরমুজে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালায় ইরানি বাহিনী, তাও কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন চাপ ও আগের জাহাজ বাজেয়াপ্তের ঘটনার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে তেহরান।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ প্রণালীতে এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। ভারত-সহ একাধিক দেশের নজর এখন এই পরিস্থিতির দিকে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যে দ্রুত বাড়ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
