Skip to content

‘ইঞ্জিন রুম উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সেনা’—ট্রাম্পের দাবিতে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল

নিজস্ব সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে ফের বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ দখল নিয়ে সরাসরি বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার আরোপিত অবরোধ অমান্য করেই ওই জাহাজ এগোচ্ছিল। একাধিকবার সতর্ক করার পরও নির্দেশ না মানায় শেষ পর্যন্ত গুলি চালিয়ে জাহাজটি দখল করা হয়।ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী রণতরী স্প্রুয়ান্স প্রথমে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করায় গুলি চালানো হয় এবং জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে বড় গর্ত তৈরি হয়। বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তার ভিতরে কী রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্পের কথায়, ‘তৌস্কা’ নামের প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ এই জাহাজ অতীতে নানা কার্যকলাপের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।অন্যদিকে, এই ঘটনাকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছে না ইরান। সে দেশের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ‘সশস্ত্র ছিনতাই’-এর সামিল এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।ইরানের তরফে আরও বলা হয়েছে, জাহাজটি চিন থেকে পণ্য নিয়ে দেশে ফিরছিল। এমন অবস্থায় হরমুজ়ে মার্কিন অবরোধ এবং জাহাজ দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইরান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেবে ইরানের সেনাবাহিনী।উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই দুই দেশের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মেয়াদ খুব শিগগিরই শেষ হতে চলেছে। এর মাঝেই এই ঘটনার জেরে কূটনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, তেহরান সেই বৈঠক বাতিল করেছে। তাদের অভিযোগ, আমেরিকার অতিরিক্ত চাপ ও আগ্রাসী নীতির কারণে আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ় প্রণালী—যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ—সেখানে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Latest