Skip to content

ভোটের মুখে জঙ্গলমহলে বড় ধাক্কা তৃণমূলকে, বিজেপিতে যোগ দিলেন মিনু বাউরি!

অভিজিৎ সাহা : ভোটের আগে ফের দলবদলে সরগরম জঙ্গলমহলের রাজনীতি। পুরুলিয়ার পাড়া বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে এবার বড়সড় রাজনৈতিক চমক। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ জেলা মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী মিনু বাউরি দল ছেড়ে শনিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর সভামঞ্চে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর এই দলবদল রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডির কুশলডিহি মাঠে আয়োজিত বিজেপির জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান মিনু বাউরি। পাড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ঘোষণার আগে পর্যন্ত তিনিই ছিলেন তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। তবে শেষ পর্যন্ত দল মানিক বাউরিকে প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এরপর থেকেই তৃণমূলের প্রচারে তাঁর অনুপস্থিতি স্পষ্টভাবে নজরে আসছিল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তফশিলি জাতি অধ্যুষিত পাড়া কেন্দ্রে মিনু বাউরির ব্যক্তিগত প্রভাব যথেষ্ট। ফলে তাঁকে দলে টেনে বিজেপি ওই ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের প্রভাব আরও মজবুত করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মিনু বাউরির রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল সিপিএমের হাত ধরে। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি জয়ীও হন। পরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তৃণমূলে যোগ দেন।দলবদলের পর মিনু বাউরি সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূলে থেকে কোনও কাজ করা যায় না, দমবন্ধ পরিস্থিতি। তাই বিজেপিতে এলাম।” তাঁর এই মন্তব্যে নির্বাচনের আগে জেলার রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বেড়েছে।এদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “প্রার্থী না হতে পেরে দল ছাড়া মানে আদর্শহীন রাজনীতি। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।” পাল্টা বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি, ভোট যত এগোবে তৃণমূলের ভাঙন ততই বাড়বে এবং আরও একাধিক নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।পুরুলিয়ার পাড়া কেন্দ্রের এই দলবদল আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। জঙ্গলমহলের এই আসনে মিনু বাউরির অবস্থান ভোটের অঙ্কে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির।

Latest