নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র তিনদিন বাকি। তার আগেই প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। শনিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলকাতার মোট চারটি থানায় আধিকারিকদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর গৌতম দাসকে কালীঘাট থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসিকেও সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চেরই ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার পাইক।এছাড়াও, কলকাতা পুলিশের সাউথ ডিভিশনের ইন্সপেক্টর সুব্রত পান্ডেকে আলিপুর থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। উল্টোডাঙা মহিলা থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলিপুর থানার অতিরিক্ত ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৯ মার্চই কালীঘাট থানার ওসি হিসেবে উৎপল কুমার ঘোষকে নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন। মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে নতুন ওসি নিয়োগ করা হল, যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।কালীঘাট থানা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত—যেখানে আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট রয়েছে। এই কেন্দ্র বিশেষভাবে হাই-প্রোফাইল, কারণ এখানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর বিজেপির তরফে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন।প্রসঙ্গত, ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও, এবারের নির্বাচনে সেই রদবদলের মাত্রা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, অন্যান্য রাজ্যের নির্বাচনেও এত ব্যাপক বদল খুব একটা দেখা যায় না।দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শেষ মুহূর্তে এই রদবদল রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তবে কমিশনের তরফে স্পষ্ট—নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
ভোটের মুখে পুলিশে বড়সড় রদবদল! কালীঘাট থানার ওসি সরাল নির্বাচন কমিশন