নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটের আবহে ভবানীপুরে রাজনৈতিক সংঘাত এবার পৌঁছাল নতুন উচ্চতায়। শনিবার দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এলাকার চক্রবেড়িয়া রোডে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অপ্রত্যাশিত বিশৃঙ্খলার মুখে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। অভিযোগ, তাঁর সভাস্থলের অদূরেই বিজেপির তরফে জোরে মাইকিং শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিজের ভাষণ চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। শেষমেশ কয়েক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেই সভা শেষ করতে বাধ্য হন তিনি।ঘটনার জেরে চক্রবেড়িয়া এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে বিজেপি সমর্থকদের স্লোগান, অন্যদিকে পাল্টা প্রতিবাদে তৃণমূল কর্মীরা—দুই পক্ষের টানাপোড়েনে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই এলাকাতেই সভা করার কথা রয়েছে বিজেপি নেতা Suvendu Adhikari-র, ফলে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ছে।মঞ্চ থেকেই ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সমস্ত সরকারি অনুমতি নেওয়ার পরেও এই ধরনের আচরণ ‘অপমানজনক’। তিনি বলেন, “আমি সব অফিশিয়াল পারমিশন নিয়েছি। তার পরেও এই মনোভাব? ওরা জোর করে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে চাইছে—এটা ঠিক নয়।” একইসঙ্গে নির্বাচন বিধি ভাঙার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা নিচ্ছে না।পরিস্থিতির চাপে পড়ে সাধারণ মানুষের কাছেও দুঃখপ্রকাশ করেন মমতা। তাঁর কথায়, “আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না। এটা খুব অপমানজনক। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি।” তিনি আরও জানান, পরের দিন ওই এলাকাতেই র্যালি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।শেষে ভোটারদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “যদি পারেন, ভোটটা আমায় দেবেন। এর প্রতিবাদে আপনাদের ভোটটাই জবাব দেবে।”সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভবানীপুরে এই ‘মাইক যুদ্ধ’ রাজনীতির উত্তাপকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, এই সংঘাত আগামী দিনে কতটা বড় আকার নেয়।