সেখ ওয়ারেশ আলী :বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরেই ফের উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। গতকাল ৬ই মে, বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ৭ই মে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির বুড়িশোল এলাকায় চন্দ্রনাথ রথের হত্যার প্রতিবাদে পথ অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বিক্ষোভ। একইসঙ্গে ভাদুতলা এলাকাতেও রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ দেখানো হয়। ফলে এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর এবং দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস মেলায় অবরোধ তুলে নেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।এদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও তদন্তে কোনওরকম বাধা সৃষ্টি করতে চান না বলেই জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সিসিটিভি ফুটেজ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য,“পুলিশের উপরেই ভরসা রাখা হচ্ছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”ঘটনার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি স্পষ্টভাবে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানান এবং সকলকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান করেন।চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তদন্ত। এখন নজর পুলিশ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।