অভিজিৎ সাহা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোটের মাত্র দু’দিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছাল। শালবনি কেন্দ্রের চন্দ্রকোনা রোডে আয়োজিত জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে স্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন।

সভামঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কোনও ‘ভাইপো’ হবেন না, বরং “বাংলার ভূমিপুত্র” একজন নেতা সেই দায়িত্ব নেবেন। এই মন্তব্যে সরাসরি নিশানা করা হয় Mamata Banerjee-র নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ‘পরিবারতন্ত্র’ বা উত্তরাধিকার রাজনীতির অভিযোগকে।
মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে পাল্টা বার্তা :
তৃণমূলের তরফে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি জিতলে বাইরে থেকে কেউ এসে বাংলার শাসনভার নেবে। সেই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে Amit Shah বলেন, এটি “ভ্রান্ত প্রচার”। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি রাজ্যেরই একজন নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরবে—একজন প্রকৃত “ভূমিপুত্র”।

নারী সুরক্ষা ও সংরক্ষণ ইস্যুতে কড়া সুর :
নারী নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ প্রসঙ্গেও তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন শাহ। তিনি দাবি করেন, Narendra Modi সরকারের আনা ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে তৃণমূল বাধা দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।

রাম মন্দির ইস্যুতে রাজনৈতিক সুর :
অযোধ্যার Ram Mandir প্রসঙ্গ তুলে ধর্মীয় রাজনীতিতেও সরব হন শাহ। তিনি দাবি করেন, বাংলায় কোনওভাবেই “বাবরি মসজিদ তৈরির রাজনীতি” সফল হতে দেওয়া হবে না। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জোর :
নির্বাচনী লড়াইকে কেবল সরকার গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে Amit Shah এটিকে “অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়ার সংগ্রাম” বলেও ব্যাখ্যা করেন। সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রশ্ন তুলে তিনি ভোটারদের কাছে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য :
ভোটের ঠিক আগে এমন মন্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে বিজেপি একদিকে যেমন তৃণমূলের ‘বাইরের নেতৃত্ব’ প্রচারকে খণ্ডন করতে চাইছে, তেমনি ‘ভূমিপুত্র’ তত্ত্ব তুলে ধরে স্থানীয় আবেগেও জোর দিচ্ছে।