Skip to content

ভুয়ো জব কার্ডে কড়া পদক্ষেপ, বাতিল প্রায় ৪ হাজার; ‘ভিবি-জি রাম-জি’ প্রকল্পে কর্মসংস্থানে জোর পশ্চিম মেদিনীপুরে!

সেখ ওয়ারেশ আলী : গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকাকে আরও শক্তিশালী করতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ‘বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ‘ভিবি-জি রাম-জি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মূল লক্ষ্য, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে কাজের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করা। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন, প্রকল্প শুরুর আগেই ব্যাপক যাচাই অভিযানে প্রায় ৪ হাজার ভুয়ো জব কার্ড বাতিল করা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতেও এই নজরদারি ও যাচাই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, যাতে সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত শ্রমিকদের কাছেই পৌঁছায়। গত ১ জুলাই থেকে চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৭ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক নথিভুক্ত রয়েছেন। প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে শালবনী ব্লকের সাতপাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাথরি গ্রামে।

সেখানে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মাটি খননের কাজ চলছে। প্রশাসনের আশা, প্রথম পর্যায়েই প্রায় ৭ হাজার কর্মদিবস সৃষ্টি হবে। ধাপে ধাপে জেলার ২১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এবার প্রশাসন কড়া নজরদারির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আধিকারিকদের দাবি, ভুয়ো জব কার্ড বাতিলের ফলে প্রকৃত শ্রমিকদের হাতে কাজ পৌঁছানো সহজ হবে এবং একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপব্যবহারও রোধ করা যাবে। জেলা প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন গ্রামীণ এলাকার কর্মসংস্থান বাড়াবে, অন্যদিকে জল সংরক্ষণ, মাটি উন্নয়ন এবং পরিকাঠামোগত কাজে গতি এনে সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। জেলার পরিকল্পনা

  • প্রথম পর্যায়: পাথরি গ্রামে জল সংরক্ষণ প্রকল্প
  • সম্ভাব্য কর্মদিবস: প্রায় ৭,০০০
  • পরবর্তী পর্যায়: ২১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে উন্নয়নমূলক কাজ
  • মূল ফোকাস: স্বচ্ছতা, নজরদারি ও প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিতকরণ

প্রশাসনের দাবি :

এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে জল সংরক্ষণ, মাটি উন্নয়ন ও স্থানীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজও দ্রুত এগোবে। ফলে প্রকৃত শ্রমিকদের হাতে কাজ পৌঁছানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রশাসনের আশা।

Latest