Skip to content

নীলবাতির গাড়ি ছেড়ে টোটোয় চেপে বন্যাপ্রবণ গ্রামে পুলিশ সুপার, আগাম প্রস্তুতিতে জোর!

অভিজিৎ সাহা : ঘাটালে বন্যার আশঙ্কা, আগাম প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে টোটোয় চেপে গ্রামে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা!ঘাটাল মানেই বর্ষা এলেই বন্যার আশঙ্কা। বছরের পর বছর নদীর জল বাড়লেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়া যেন এই মহকুমার মানুষের নিত্যসঙ্গী। তবে এবার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই মাঠে নেমেছে প্রশাসন। আর সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে নিজেই সরেজমিনে পৌঁছে গেলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। ভোটের আগে জেলার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি। এবারও প্রশাসনিক তৎপরতার অন্য এক নজির গড়লেন। নীলবাতি লাগানো সরকারি গাড়ি বা কড়া নিরাপত্তার বহর ছেড়ে সাধারণ টোটোয় চেপে ঘাটালের মনসুকা-১ ও মনসুকা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্গম ও সরু গ্রামীণ রাস্তায় পৌঁছে যান পুলিশ সুপার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

এই পরিদর্শনে পুলিশ সুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট, পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাপিয়া সুলতানা জানান, প্রতিবছর যে এলাকাগুলি সবচেয়ে বেশি বন্যার কবলে পড়ে, সেখানে বিপর্যয় নেমে আসার আগেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, সিভিল প্রশাসন, পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন, যাতে কোনও রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। তিনি জানান, এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের নিরাপত্তায়। সম্ভাব্য প্রসবের অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় বা নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তরের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার সময় বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সমস্যা মোকাবিলায়ও নেওয়া হয়েছে একাধিক আগাম ব্যবস্থা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ট্রান্সফরমার উঁচুতে বসানো, পানীয় জল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে সাবমার্সিবল পাম্প চালানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থানে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। এদিন পাপিয়া সুলতানা জানান, দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ নয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাধিকার দিয়েই সকলের হাতে এই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বতোভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

Latest