Skip to content

কোলাঘাট ফুলবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ফুলের হাব নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা

নিজস্ব সংবাদদাতা: কোলাঘাট ফুলবাজারের দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যা, রেল দপ্তরের তে-বাজারি টিকিট আদায় এবং বাজারকে আধুনিক 'ফুলের হাব' হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা। গণস্বাক্ষর-সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আবেদন জানাল কোলাঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতি। জানা গিয়েছে, গতকাল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং পাঁশকুড়া পূর্বের বিধায়কের কাছে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়ার পর বুধবার তাঁদের উপস্থিতিতেই জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকাঠামোর অভাব এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, কোলাঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতির সভাপতি দেবব্রত কোলে, কার্যকরী সভাপতি অনিল প্রামাণিক, যুগ্ম সম্পাদক দিলীপ প্রামাণিক, সদস্য বিশ্বজিৎ নায়েক-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। তাঁদের পক্ষ থেকে সহস্রাধিক ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীর গণস্বাক্ষর-সম্বলিত স্মারকলিপি জেলাশাসকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়েছে, কোলাঘাট ফুলবাজারে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য পাকা মেঝে, স্থায়ী শেড, হিমঘর, শৌচাগার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালু করতে হবে। পাশাপাশি বাজারটিকে আন্তর্জাতিক মানের ফুলের হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেল দপ্তরের তে-বাজারি টিকিট আদায়ে বেসরকারিকরণের উদ্যোগের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। কোলাঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতির উপদেষ্টা তথা সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করেন, রেল দপ্তর বাজারে আগত চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০ টাকা থেকে ৪২ টাকা পর্যন্ত তে-বাজারি টিকিট বাবদ অর্থ আদায় করলেও বাজারে প্রয়োজনীয় পরিষেবার কোনও ব্যবস্থা নেই। এই বিষয়ে গত ২৫ জুন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ডিআরএম-এর কাছেও বিক্ষোভ-ডেপুটেশনের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিনিধিরা আরও জানান, সম্প্রতি নিম্নচাপের বৃষ্টিতে অপরিকল্পিতভাবে ফুলবাজার সংলগ্ন খাদ ভরাট করে দেওয়ায় জলনিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে বাজারের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের চরম সমস্যায় ফেলেছে। বিষয়টি নিয়েও অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা জেলাশাসককে সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। জেলাশাসক প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দিয়ে জানান, খুব শীঘ্রই তিনি কোলাঘাট ফুলবাজার পরিদর্শন করবেন এবং সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং পাঁশকুড়া পূর্বের বিধায়ক কোলাঘাট ফুলবাজার পরিদর্শন করে চাষি ও ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শুনেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় দ্রুত সমাধানের আশায় রয়েছেন এলাকার হাজার হাজার ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী।

Latest