Skip to content

শ্রীজাতকে ঘিরে গ্রেফতারি পরোয়ানা বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে মিলল গুজবের খণ্ডন!

1 min read

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হঠাৎই কবি Srijato Bandyopadhyay-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল—সব জায়গাতেই শুরু হয় জোর আলোচনা, উঠতে থাকে প্রশ্ন। অনেকেই দাবি করেন, কবির বিরুদ্ধে থাকা একটি পুরনো মামলার ভিত্তিতেই নাকি এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২০১৭-র ‘অভিশাপ’ কবিতা ঘিরে বিতর্কের সূচনা :

২০১৭ সালের ১৯ মার্চ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে Yogi Adityanath শপথ নেওয়ার পরই কবি Srijato Bandyopadhyay তাঁর ফেসবুক পেজে ‘অভিশাপ’ নামে একটি ১২ লাইনের কবিতা পোস্ট করেন। কবিতার শেষের কয়েকটি লাইনে ব্যবহৃত শব্দবন্ধ ঘিরেই দ্রুত বিতর্ক দানা বাঁধে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, কবিতায় হিন্দুদের পবিত্র প্রতীক ‘ত্রিশূল’ নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

অভিযোগ দায়ের ও আইনি পদক্ষেপ :

এই ঘটনার জেরে শিলিগুড়ির বাঘডোগরার বাসিন্দা এক কলেজ ছাত্র, অর্ণব সরকার, সাইবার ক্রাইম থানায় কবির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫এ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলা রুজু হয়। যদিও সেই সময় কবির পাশে দাঁড়ান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-সহ রাজ্যের বহু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, শ্রীজাতর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় রাজ্য সরকার পাশে থাকবে।

আদালতের হস্তক্ষেপে তদন্তে গতি :

দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি কার্যত স্থবির অবস্থায় থাকার পর ২০২২ সালে Calcutta High Court বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। মামলাকারী বিপ্লব কুমার চৌধুরীর অভিযোগ ছিল, ২০১৭ সালে এফআইআর দায়ের হলেও পুলিশ তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পরই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে গতি আসে।

নির্বাচনের আবহে এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধও শুরু হয়ে যায়। এমনকি গুজব ছড়ায়, কবিকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়াও নাকি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কিছু মহলে এই যুক্তিও সামনে আনা হয় যে, ভোটের সময় তাঁর বক্তব্য বা উপস্থিতি থেকে উত্তেজনা ছড়াতে পারে—এই আশঙ্কায় ‘সতর্কতামূলক’ ব্যবস্থা হিসেবে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে।তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশনের তরফে ইলেকশন অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত জানিয়ে দেন, এ ধরনের কোনও নির্দেশ কমিশন দেয়নি। অর্থাৎ, গ্রেফতারি পরোয়ানার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই ইঙ্গিত মেলে।কমিশনের এই স্পষ্টীকরণের পরও গুজবের রেশ কাটেনি পুরোপুরি। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো ঘটনাকে ঘিরে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক চাপানউতোর এখনো অব্যাহত।

Latest