Skip to content

মেছেদা ইসকনের রথযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখর উৎসব প্রাঙ্গণ!

সমীরণ ভৌমিক : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আবহে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মেছেদা ইসকন মন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো শ্রীজগন্নাথদেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব। বিকেল ৪টায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রথযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনির মাধ্যমে সকলকে রথযাত্রার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বক্তব্যে তিনি বলেন, রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আত্মবিশ্লেষণ ও মূল্যবোধকে স্মরণ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। অতীতকে মনে রেখে বর্তমানকে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের উচিত নিজের শিকড় ও সংস্কৃতিকে কখনও ভুলে না যাওয়া।তিনি আরও বলেন, প্রভু জগন্নাথদেবের আশীর্বাদেই এদিন অনুকূল আবহাওয়ার মধ্যে নির্বিঘ্নে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ-এর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, প্রভুপাদের আদর্শ, দর্শন ও নির্দেশনা অনুসরণ করেই মেছেদা ইসকন মন্দির আজ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে দোলযাত্রা, গোবর্ধন পূজা, জন্মাষ্টমী, গোমাতা পূজাসহ একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্দিরে উপস্থিত থেকেছেন। পাশাপাশি তিনি ইসকন, শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই প্রতিষ্ঠানগুলি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও এদের অবদান উল্লেখযোগ্য।রথযাত্রা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নামে। কীর্তন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং শ্রীজগন্নাথদেবের রথ টানাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ভক্তদের অংশগ্রহণে মেছেদা ইসকনের এবারের রথযাত্রা উৎসব এক আন্তরিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

Latest