Skip to content

স্ক্রাব টাইফাস: সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা নয়, সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে!

নিজস্ব সংবাদদাতা : স্ক্রাব টাইফাস একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা Orientia tsutsugamushi নামক জীবাণুর কারণে হয়। এই জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে অত্যন্ত ক্ষুদ্র লার্ভা মাইট বা ‘চিগার’ পোকার কামড়ের মাধ্যমে। সাধারণত ঝোপঝাড়, ঘাসে ঢাকা এলাকা, গ্রামীণ পরিবেশ এবং জঙ্গল সংলগ্ন অঞ্চলে এই পোকার উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না কখন এই পোকার কামড় খেয়েছেন।

রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি অনেকটাই সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো। জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমিভাব, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। ফলে শুরুতে রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সংক্রমণ শরীরের ভেতরে রক্তনালীগুলিকে আক্রান্ত করতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে লিভার, ফুসফুস, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।স্ক্রাব টাইফাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো শরীরে ছোট কালচে বা কালো রঙের ক্ষতচিহ্ন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এস্কার’ (Eschar) বলা হয়। এটি দেখতে অনেকটা পোড়া দাগের মতো। যদিও সব রোগীর শরীরে এই দাগ দেখা যায় না, তাই চিকিৎসকদের রোগটি সম্পর্কে সতর্ক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সংক্রমণ যদি মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়, তাহলে মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীর আচরণে পরিবর্তন, অতিরিক্ত খিটখিটে মেজাজ, বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, জ্ঞানস্তর কমে যাওয়া, প্রলাপ, খিঁচুনি এমনকি কোমার মতো পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রক্তচাপ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়।তবে আশার কথা, সময়মতো রোগটি শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর। ডক্সিসাইক্লিন বা অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার পর অধিকাংশ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে পরিস্থিতি গুরুতর এমনকি প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Latest