নিজস্ব সংবাদদাতা : নিমপুরা আর্য বিদ্যাপীঠকে ঘিরে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল জেলাজুড়ে। দীপককুমার দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে আদালতে মামলা দায়ের করেন স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক চণ্ডীচরণবাবু। অভিযোগ—স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিষয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন দীপকবাবু। তবে এই মামলার ভিত্তি নিয়েই উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। সূত্রের খবর, নিমপুরা আর্য বিদ্যাপীঠের পরিচালন ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান দীপককুমার দাশগুপ্ত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্কুল শিক্ষা দফতর ও সর্ব শিক্ষা মিশন যৌথভাবে তদন্তে নামে। যদিও সর্ব শিক্ষা মিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি, স্কুল শিক্ষা দফতরের দুই স্কুল পরিদর্শক (এসআই) একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন ডিআই-এর কাছে। অভিযোগ, এই তদন্ত ছিল একেবারেই একপেশে। তদন্ত চলাকালীন শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য রেকর্ড করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে লিখিত জবাব নেওয়া হয়। অথচ অভিযোগকারী, অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী বা অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো কথাই বলা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—এমন পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্ট তৈরির পেছনে কি কোনো নির্দেশ ছিল? যদি তদন্তে ত্রুটি থেকে থাকে, তবে কেন পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলেন না ডিআই? বরং সেই রিপোর্টই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য স্কুল শিক্ষা কমিশনারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।অভিযোগকারীদের দাবি, গোটা ঘটনায় ডিআই দফতরের ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক। প্রধান শিক্ষককে রক্ষা করতেই পরিকল্পিতভাবে একপেশে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। কারণ, প্রধান শিক্ষক সমস্যায় পড়লে তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবেও ডিআই দফতরের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারত। এই প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টকে হাতিয়ার করেই আদালতের দ্বারস্থ হন চণ্ডীচরণবাবু। তাঁর দাবি, তদন্তে তাঁকে ‘ক্লিনচিট’ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই রিপোর্ট যে চূড়ান্ত নয়, সেই বিষয়টি নিয়ে ডিআই দফতরের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। এখন বড় প্রশ্ন—মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানার পরও কেন নীরব প্রশাসন? কেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? ডিআই দফতরের এই নীরবতা কি তবে দুর্নীতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে? পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য তুঙ্গে। স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে সরব হচ্ছেন অনেকেই। এখন দেখার, প্রশাসন এই বিতর্কে কী অবস্থান নেয় এবং আদৌ সত্য সামনে আসে কিনা।
নিমপুরা আর্য বিদ্যাপীঠে বিতর্কের ঝড়!