নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলায় West Bengal Assembly Election 2026-এর প্রথম দফা শান্তিপূর্ণভাবে মিটতেই দ্বিতীয় দফার আগে আরও সতর্ক হল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ এপ্রিলের ভোটকে ঘিরে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত নির্বাচন কমিশন। তারই অংশ হিসেবে দক্ষিণবঙ্গের দায়িত্বে ১১ জন নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা।কড়া মেজাজের জন্য পরিচিত এই অফিসারকে অনেকেই ‘যোগীরাজ্যের সিংঘম’ বলেই চেনেন। পাঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা অজয় পাল শর্মা পেশায় দন্ত চিকিৎসক হলেও পরবর্তীতে পুলিশ সার্ভিসে যোগ দিয়ে নিজের কাজের ধরনে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন। নয়ডা, রামপুর, জৌনপুর—যেখানেই দায়িত্বে ছিলেন, সেখানেই অপরাধ দমনে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উত্তরপ্রদেশে মাফিয়া দমনে একাধিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদে কর্মরত এবং চলতি বছর আইজি পদে উন্নীত হয়েছেন।এবার তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ওপর নজরদারির। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই জেলায় অতীতে একাধিকবার অশান্তির নজির রয়েছে। তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এই নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে—তবে কি বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা করছে কমিশন?এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের মতে, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এভাবে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অফিসার পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের যুক্তি, সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে অভিজ্ঞ ও কঠোর প্রশাসনিক আধিকারিকের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। ফলে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।