অভিজিৎ সাহা: নতুন প্রজন্মের হাতে বই তুলে দিয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বাংলার সমৃদ্ধ খাদ্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকার কিয়াবণী প্রমথনাথ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য বইমেলা ও খাদ্য মেলা। বিদ্যালয় ও গ্রাম শিক্ষা কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শালবনি বিধানসভার বিধায়ক বিমান মাহাতো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সুকুমার গোস্বামী, ফুড সেফটি অফিসার শুভব্রত দাস, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষিকা ভারতী ম্যাডাম, সমাজসেবী ধীমান কোলে, প্রণব ঘোষ, বিশ্বরূপ রায়, অজিত মণ্ডল, অমৃত মণ্ডল, সুখেন দুলে এবং মলয় মণ্ডল। এছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরাও অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

এই আয়োজনের অন্যতম সহযোগী ছিল ঝাড়গ্রাম বইমেলা কমিটি, রঘুনাথপুর,ঝাড়গ্রাম। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভিক্টর বেরা-র নেতৃত্বে এবং সহশিক্ষক সঞ্জয় হালদার, হরপ্রসাদ লাহা, প্রিয়াঙ্কা সাঁতরা ও শ্রাবন্তী কোল্যা-র আন্তরিক প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

বইমেলায় বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা শিশু সাহিত্য, গল্প, বিজ্ঞান, সাধারণ জ্ঞানসহ নানা বিষয়ের বইয়ের সম্ভার নিয়ে অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এই উদ্যোগকে শিক্ষক, অভিভাবক এবং অতিথিরা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন।অন্যদিকে খাদ্য মেলায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পদের সমাহার দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। গ্রামীণ স্বাদের নানা খাবারের পাশাপাশি বিশু ভাইয়ের মাটির ভাঁড়ের চা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সেই চায়ের স্বাদ উপভোগ করতে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের মধ্যে। আয়োজকদের বক্তব্য, শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনভর প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বইমেলা ও খাদ্য মেলা শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।