Skip to content

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: দালালরাজ রুখতে রঙভিত্তিক পরিচয় ব্যবস্থা চালু !

নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিকে দালালমুক্ত করতে বড়সড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যভবনে তৈরি হওয়া নতুন কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলির উপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে কন্ট্রোল রুমের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র নির্মূলের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, গ্রুপ-ডি কর্মী ও সাফাই কর্মীদের জন্য থাকবে রঙভিত্তিক (কালার-কোডেড) পরিচয়পত্র বা ব্যাজ। অন্যদিকে, ভর্তি রোগীদের হাতে থাকবে বিশেষ রঙের ব্যান্ড, এবং রোগীর নির্দিষ্ট পরিজনদের জন্যও থাকবে আলাদা রঙের পরিচয় ব্যান্ড। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, হাসপাতালের ভেতরে কারা অনুমোদিত ব্যক্তি এবং কারা বহিরাগত, তা সহজেই চিহ্নিত করার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, সাফাইকর্মী, গ্রুপ-ডি কর্মী, রোগী এবং রোগীর অনুমোদিত পরিজন—এই নির্দিষ্ট পরিচয়ধারীদের বাইরে যাঁরা হাসপাতালে ঘোরাফেরা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানো হবে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে হাসপাতাল চত্বরে কোনও দালালচক্র সক্রিয় হতে না পারে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যেই এই নতুন পরিচয় ব্যবস্থা ও নজরদারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করতে হবে। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি স্বাস্থ্য দফতরকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে "কড়া হেডমাস্টার" বলে উল্লেখ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্তরের হাসপাতাল কর্মীদের জন্য ল্যামিনেটেড ও রঙভিত্তিক পরিচয় ব্যাজ বাধ্যতামূলক করা হবে। অনেক সময় অভিযোগ ওঠে, নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্বে না থাকা ব্যক্তিরা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাজে হস্তক্ষেপ করছেন। সেই ধরনের অনিয়ম রুখতেই প্রত্যেক কর্মীর পরিচয় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Latest