নিজস্ব সংবাদদাতা : ক্রিকেট বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। প্রয়াত হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড (গ্যারি) সোবার্স। শুক্রবার ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আর মাত্র দুই সপ্তাহ পরই তাঁর ৯০তম জন্মদিন ছিল। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব ক্রিকেটে। ভক্ত, প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটাররা শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারকে।

ক্রিকেট ইতিহাসে গ্যারি সোবার্স শুধু একজন ব্যাটার বা বোলার নন, তিনি ছিলেন এক সম্পূর্ণ ক্রিকেটার। ব্যাট হাতে যেমন বিধ্বংসী, তেমনই পেস, স্পিন—সব ধরনের বোলিংয়ে সমান দক্ষ ছিলেন। অসাধারণ ফিল্ডিংও তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। তাই অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতে, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় তাঁর নাম প্রথম সারিতেই থাকবে।

তাঁর ক্রিকেটজীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাবিনা পার্কে খেলা অপরাজিত ৩৬৫ রানের সেই মহাকাব্যিক ইনিংস। মাত্র ২২ বছর বয়সে খেলা ওই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে তখনকার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। সেই ইনিংসে তিনি শুধু নিজের প্রথম টেস্ট শতকই করেননি, এক লাফে পৌঁছে গিয়েছিলেন দ্বিশতক, ত্রিশতক এবং শেষ পর্যন্ত ৩৬৫ রানে।

সেই ম্যাচে অভিজ্ঞ ওপেনার কনরাড হান্টের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৪৬ রানের জুটি গড়েছিলেন সোবার্স।

আজও সেই জুটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পার্টনারশিপ হিসেবে রেকর্ড বইয়ে স্থান করে রয়েছে। পরে তাঁর ৩৬৫ রানের বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছিলেন আরেক ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা।

গ্যারি সোবার্সের কেরিয়ার জুড়ে রয়েছে অসংখ্য অবিস্মরণীয় কীর্তি। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ২৬টি শতরান করেন এবং ব্যাট-বলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানোর নজিরও তাঁর নামের সঙ্গে চিরকাল জড়িয়ে থাকবে।

স্যার গ্যারি সোবার্সের প্রয়াণে শুধু একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারকেই হারাল না বিশ্ব, হারাল এমন এক ব্যক্তিত্বকে, যিনি তাঁর প্রতিভা, সৌন্দর্যময় ব্যাটিং, বহুমুখী দক্ষতা এবং খেলার প্রতি নিবেদনের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে গেছেন। তাঁর কীর্তি ও অবদান ক্রিকেট ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।