নিজস্ব সংবাদদাতা : ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুরু হতে চলেছে আসল লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচেই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক হাইভোল্টেজ সংঘর্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম চমক মরক্কো। এই ম্যাচ ঘিরে বাড়তি উত্তেজনার কারণ, এটি ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি। সেবার মরক্কোর ঐতিহাসিক স্বপ্নযাত্রার ইতি টেনেছিল ফ্রান্স। চার বছর পর ফের সেই দুই দল মুখোমুখি হওয়ায় প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

দিদিয়ের দেশঁর দল এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। পাঁচ ম্যাচে ১৪ গোল করে ইতিমধ্যেই নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে 'লে ব্লু'। আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে এবং মাইকেল অলিসের ত্রয়ী প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছেন এমবাপে। ইতিমধ্যেই তাঁর ঝুলিতে সাতটি গোল। অন্যদিকে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টের সেরা প্লেমেকারদের তালিকায় রয়েছেন মাইকেল অলিসে। ফলে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে রুখে দেওয়াই মরক্কোর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

অন্যদিকে মরক্কো এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের শক্তিশালী রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সংগঠিত ফুটবলের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছে। শেষ ষোলোয় কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর আটলাস লায়ন্সরা এবারও ঘন রক্ষণ গড়ে এমবাপেকে আটকে রাখার কৌশলেই এগোতে চাইবে।

ম্যাচ-পূর্ব সাংবাদিক বৈঠকেও তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। সাংবাদিকদের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তির জেরে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সেই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজ। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি বলেন, "কিলিয়ান এমবাপে অসাধারণ ফুটবলার। তবে ম্যাচ শুরু হলে বন্ধুত্ব আর সম্মান সব মাঠের বাইরে থাকবে। মরক্কোর জয়ের জন্য আমি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেব।" অন্যদিকে ম্যাচের আগে ফিফার রেফারি নিয়োগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের দায়িত্বে রয়েছেন আর্জেন্টিনার রেফারি ফাকুন্দো তেলো। এ নিয়ে নানা জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "আমাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, রেফারি নন। আমি ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের উপর পূর্ণ আস্থা রাখি।"

ফ্রান্সের জন্য সুখবর, দলের কোনও গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার চোট বা নির্বাসনের কারণে বাইরে নেই। পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে নামছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে মরক্কোর শিবিরে বড় ধাক্কা। বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে উঠতে না পারায় এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তাঁর অনুপস্থিতি মরক্কোর মাঝমাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে কিলিয়ান এমবাপের দিকে। একইসঙ্গে ব্রাহিম দিয়াজ, আশরাফ হাকিমি ও মরক্কোর রক্ষণভাগ কতটা সফলভাবে ফ্রান্সের আক্রমণ সামাল দিতে পারে, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে ম্যাচের ভাগ্য। ২০২২ সালের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তিতে এবারও কি জয়ী হবে ফ্রান্স, নাকি ইতিহাস গড়ে নতুন অধ্যায় লিখবে মরক্কো—তার উত্তর মিলবে কোয়ার্টার ফাইনালের এই মহারণেই।
