Skip to content

ভোটে নজরদারিতে এআই বিপ্লব! সব বুথে লাইভ ক্যামেরা, অনিয়ম হলেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ট!

অভিজিৎ সাহা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে বড়সড় প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই প্রথমবার রাজ্যের প্রতিটি পোলিং বুথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নজরদারি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভোট প্রক্রিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।প্রশাসনিক বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, এবার আর সীমিত পর্যায়ে নয়—প্রতিটি বুথেই বাধ্যতামূলকভাবে ওয়েবকাস্টিং করা হবে। প্রতিটি বুথে অন্তত দুটি করে ক্যামেরা বসানো হবে—একটি বুথের ভেতরে এবং অন্যটি বাইরে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে অতিরিক্ত ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা বসানোরও পরিকল্পনা রয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে এই এআই নজরদারি?

ভোটের দিন প্রতিটি বুথ থেকে লাইভ ভিডিও ফিড সরাসরি পৌঁছবে জেলা ও রাজ্যস্তরের কন্ট্রোল রুমে। সেখানে নিযুক্ত আধিকারিকদের সহায়তা করবে বিশেষ এআই সফটওয়্যার, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠাবে।

এআই মূলত নজর রাখবে—

  • বুথে একসঙ্গে চারজনের বেশি ভোটার প্রবেশ
  • হঠাৎ অস্বাভাবিক ভিড় বা বিশৃঙ্খলা
  • ইভিএম মেশিনের আশপাশে অতিরিক্ত জমায়েত
  • প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সন্দেহজনক নড়াচড়া

এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলেই কন্ট্রোল রুমে ‘পপ-আপ অ্যালার্ট’ পৌঁছে যাবে, ফলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

৮০ হাজারের বেশি বুথে লাইভ নজরদারি :

পশ্চিমবঙ্গে মোট ৮০ হাজারেরও বেশি পোলিং বুথে এই প্রযুক্তি কার্যকর করা হবে। প্রতিটি বুথের লাইভ ফিড একাধিক স্তরের মনিটরিং সেন্টারে দেখা যাবে। নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১৫–২০ জন আইএএস ও আইপিএস আধিকারিক।

প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্নও উঠছে :

যদিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে, কিছু বিশেষজ্ঞ স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ঠিক কোন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেটি কীভাবে কাজ করবে—তা স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত।

‘শ্যাডো জোন’ বুথেও নজরদারি :

যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল, এমন ৬৪২টি ‘শ্যাডো জোন’ বুথ চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব এলাকায় লাইভ স্ট্রিমিং সম্ভব না হলে ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ড করে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে তা খতিয়ে দেখা যায়।

অনিয়ম ধরা পড়লেই কড়া ব্যবস্থা :

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বুথ দখল, ভুয়ো ভোট বা অন্য কোনো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন করতে তারা পিছপা হবে না।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা :

প্রথম দফার ভোটকে কেন্দ্র করে প্রায় ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের এই প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপে ভোট প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ ও নির্ভুল হয়, এখন সেটাই দেখার।

Latest