নিজস্ব সংবাদদাতা : রাস্তার মাঝখানে বড় গর্ত, আর তা ঘিরেই প্রতিদিন বাড়ছিল দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সম্প্রতি ওই গর্তে পড়ে আহত হন এক মহিলা। সেই ঘটনার পর আর অপেক্ষা করেননি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর মহকুমায় কেশিয়াড়ি থানার ট্র্যাফিক পুলিশের কর্মীরা। সরকারি মেরামতির অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের উদ্যোগেই ভাঙা ইট, সিমেন্ট ও স্টোন-চিপস জোগাড় করে রাস্তার গর্ত ভরাটের কাজে নেমে পড়লেন তাঁরা। শুক্রবার কেশিয়াড়িতে এই মানবিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকলেন সাধারণ মানুষ।জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর মহকুমায় কেশিয়াড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে কুলবনি যাওয়ার ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বাস, ট্রাক, ছোট গাড়ি, মোটরবাইক, অটো, টোটো ও সাইকেল চলাচল করে। বৃষ্টির সময় গর্তটি জলে ভরে যাওয়ায় তার গভীরতা বোঝা যেত না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসে কেশিয়াড়ি থানার ট্র্যাফিক ইউনিটে কর্মরত কনস্টেবল সুপ্রিয় বেরা, অজয় সীট, প্রশান্ত মান্ডি এবং সিভিক ভলান্টিয়ার বাবলু বেসরার। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেরাই গর্তটি ভরাট করবেন। প্রথমে একটি মালবোঝাই ট্রাকের চালকের কাছে অনুরোধ করে কিছু ভাঙা ইট সংগ্রহ করেন তাঁরা। পরে সিমেন্টের জন্য স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর গুদামে পড়ে থাকা অব্যবহৃত সিমেন্টের সাহায্য পান। স্টোন-চিপস সংগ্রহে প্রথমদিকে সমস্যার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত এক রিকশাচালক সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে নিজের রিকশায় ভাঙা ইট, সিমেন্ট ও স্টোন-চিপস বিনা ভাড়ায় পৌঁছে দেন। শুধু তাই নয়, পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গর্ত ভরাটের কাজেও হাত লাগান তিনি। শুক্রবার সম্মিলিত উদ্যোগে রাস্তার গর্তটি সম্পূর্ণভাবে ভরাট করা হয়। পুলিশের এই ব্যতিক্রমী ও জনস্বার্থমূলক উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। পথচলতি মানুষও তাঁদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। অনেকের মতে, দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেশিয়াড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের এই উদ্যোগ সমাজের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিক উদ্যোগ! দুর্ঘটনা রুখতে নিজেরাই রাস্তার গর্ত ভরাট করলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি ট্র্যাফিক পুলিশ!