অভিজিৎ সাহা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক দখলে এখন তৎপর শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরই। একদিকে Amit Shah-এর প্রতিশ্রুতিতে কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার বার্তা দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে পালটা চাল হিসেবে Mamata Banerjee ঘোষণা করেছেন আদিবাসীদের সারি-সারনা ধর্মকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার কথা।শনিবার Jhargram-এর জামদার সার্কাস ময়দানে নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো স্পষ্ট বার্তা দেন, “তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে আদিবাসীদের সারি-সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।” দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী সমাজের এই দাবি থাকলেও সরকারি স্তরে তা কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ জমেছিল। সেই আবেগকেই এবার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে শাসক দল।অন্যদিকে আদিবাসী সমাজের আরেকটি দীর্ঘদিনের দাবি কুড়মালি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি। সেই ইস্যুকেই সামনে রেখে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাষা ও ধর্ম—দুটি আবেগঘন ইস্যুকে সামনে রেখে আদিবাসী ভোটারদের মন জয়ের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে দুই প্রধান শিবির।উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল জঙ্গলমহলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা Jhargram-এর সমস্ত আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে প্রচারের উত্তাপে সরগরম গোটা এলাকা। শাল-পিয়ালের বনভূমি ঘেরা এই জনপদে এখন রাজনীতির মূল সুর—আদিবাসী পরিচয়, ভাষা ও ধর্মের স্বীকৃতি।এখন রাজনৈতিক মহলের নজর একটাই—ভাষার সাংবিধানিক মর্যাদা, নাকি ধর্মীয় পরিচয়ের স্বীকৃতি—কোন প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে বেশি প্রভাব ফেলে। জঙ্গলমহলের ফলাফলেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলবে।