নিজস্ব সংবাদদাতা: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প—প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইয়েই নজির গড়ার পথে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)। প্রাথমিক ফলাফলে ১০৮ আসনে এগিয়ে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদু সংখ্যা ১১৭-র খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে দলটি। ডিএমকে ও এআইডিএমকের মতো প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে পিছনে ফেলে সরকার গঠনের দোরগোড়ায় টিভিকে।এই জয়ের ঢেউয়ে উঠে এসেছে একাধিক চমকপ্রদ নাম। রয়াপুরম কেন্দ্রের কে বিজয় ধামু সেই তালিকার শীর্ষে। পেশায় অটোচালক, আর সেখান থেকেই সরাসরি বিধানসভায়—ডিএমকে ও এআইডিএমকের হেভিওয়েটদের হারিয়ে ৫৫ হাজারের বেশি ভোটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রায় ১৪ হাজার ভোটে হারিয়ে কার্যত ইতিহাস গড়েছেন ধামু।এই কেন্দ্রে মূল লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছিল এআইডিএমকের পাঁচবারের বিধায়ক ডি জয়াকুমার এবং ডিএমকের প্রার্থী সুবায়ের খানের মধ্যে। সুবায়ের খান ৪৪,৮৪২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, জয়াকুমার মাত্র ১৮ হাজার ভোটে তৃতীয় স্থানে নেমে আসেন—যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বড় ধাক্কা।অন্যদিকে, নিজেও একাধিক কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছেন বিজয়। পেরুম্বুর এবং ত্রিচি পূর্ব কেন্দ্রে তাঁর লিড ইতিমধ্যেই শিরোনামে। তবে সবচেয়ে বড় চমক—প্রাথমিক গণনায় পিছিয়ে পড়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এবং তাঁর পুত্র উদয়ানিধি স্ট্যালিন। কোলাথুর ও চেপাক কেন্দ্রে তাঁদের এই অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে।সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর এই নির্বাচনী ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে এক বড় রাজনৈতিক পালাবদলের। নতুন শক্তি হিসেবে টিভিকের উত্থান শুধু ক্ষমতার সমীকরণ বদলাচ্ছে না, বরং রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতেও চলেছে।